গাজীপুরে উপজেলা নির্বাচনে পরাজয়ের নেপথ্যে দলীয় কোন্দল!

0
5
Print Friendly, PDF & Email
Minister bg 986023410

গাজীপুরে সদ্য সমাপ্ত চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের নেপথ্যে ‘দলীয় কোন্দল’ দায়ী বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহল।

 

তাদের অভিমত, সদরে দলের শক্তিশালী অবস্থান থাকার পরও এলাকার বর্তমান ও সাবেক তিন মন্ত্রীর মধ্যে ‘সমঝোতামূলক মনোভাব’ না ‍থাকায় এখানে আওয়ামী লীগকে বিএনপির কাছে পরাজয় মানতে হয়েছে। 

 

গত সোমবার সদর উপজেলা নির্বাচনে সবকটি পদেই বিএনপি জয়ী হয়। নির্বাচনে উপজেলা চেয়াম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইজাদুর রহমান মিলন ২৩ হাজার ১৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

 

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোট ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই ৪ জন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনি ফলাফলে দেখা ‍যায়, ৪ জনের অবস্থান ছিলো যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম ও ৬ষ্ঠ। তাদের সম্মিলিত ভোট বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে বেশি। 

 

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চেয়ারম্যান প্রার্থী সেলিম রেজা ছিলেন গাজীপুর-৫ (কালিগঞ্জ) আসনের এমপি এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির অনুসারী হিসাবে পরিচিত। তিনি ভোট পেয়েছেন ১১ হাজার ৯৯৩ ভোট। 

 

তৃতীয় অবস্থানে থাকা মো. আব্দুল লতিফ ছিলেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮৯ ভোট। 

 

পঞ্চম অবস্থানে থাকা অ্যাডভোকেট রীনা পারভীন গাজীপুর-১ আসনের এমপি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হকের ঘনিষ্ট হিসাবে পরিচিত। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৫১০ ভোট। 

 

৬ষ্ঠ অবস্থানে থাকা চেয়ারম্যান প্রার্থী সফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৭৭ ভোট। তিনি গাজীপুর-১ (শ্রীপুর) আসনের এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রহমত আলীর আশির্বাদপুষ্ট। 

 

চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোট সমর্থিত হেফাজতে ইসলামের গাজীপুর জেলার যুগ্ম সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫৭ ভোট। 

 

গাজীপুর সদর আসনের ভোটাররা বলছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৪ জন প্রার্থী থাকায় সহজেই বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলে বিজয়ী হতো বলে মন্তব্য তাদের। 

 

ভোটারদের অভিমত, ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে গাজীপুর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপি প্রার্থীর জয় সহজন হয়। ২০১৪ সালে আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। 

 

এছাড়া কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় এমপি সিমিন হোসেন রিমির প্রার্থী পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে দলীয় কোন্দল ও একজন মন্ত্রীর আশির্বাদপুষ্ট চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়। 

 

একই কারণে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপি প্রার্থী জয়ী হন। এ ক্ষেত্রেও গাজীপুর জেলার এমপি ও মন্ত্রীদের অন্তকোন্দল দায়ী বলে ভোটারদের অভিযোগ।

Facebook Comments