কাপাসিয়ায় ভুয়া ডাক্তারের অস্ত্রোপচারের পর এক নবজাতকের মৃত্যু

0
16
Print Friendly, PDF & Email
kapasia-map

কাপাসিয়ায় ভুয়া ডাক্তারের অস্ত্রোপচারের পর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসী দুই ভুয়া ডাক্তারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও ‘লেনদেনে’র বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে কাপাসিয়ার টোক বাজারের টোক আধুনিক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বাংলানিউজকে জানান, টোক ইউনিয়নের গুসের কান্দি গ্রামের জনৈকা অন্তঃসত্ত্বা জেসমিন আক্তারকে সন্তান প্রসবের জন্য ঐ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। প্রসবের পর সন্তানের মৃত্যু হলে পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

একপর্যায়ে এলাকাবাসী অভিযুক্ত দুই ডাক্তার রমজান আলী ও রফিকুল ইসলামকে আটক করে এমবিবিএস পাশের সনদ চায়।  তারা সনদপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসার পর রফিকুল ইসলাম কৌশলে পালিয়ে যায় ও রমজান আলীকে পুলিশ আটক করে।
 
কিছুক্ষণ পর পুলিশ রমজান আলীকে গাড়িতে করে কিছু দূর নিয়ে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করে এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে টোক আধুনিক হাসপাতালের মালিক মো. এখলাছ উদ্দিন জানান, ডা. রমজান আলী ও ডা. রফিকুল ইসলাম তাদের পাশ করার সনদপত্র দেখাতে পারেননি। পুলিশ একজনকে আটক করে ছেড়ে দিয়েছে।

তিনি জানান, তার হাসপাতালে ওই দুইজন ছাড়াও ডা. বিপ্লব কুমার নামে আরও একজন ডাক্তার রয়েছেন। এর আগে, এই তিনজনের সনদপত্র না দেখানোর কারণে গাজীপুরের সিভিল সার্জনকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তারা জোরপূর্বক চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জানা যায়, অভিযুক্ত রমজান আলীর বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে ও রফিকুল ইসলামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ায়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম শরীফ দাবি করেন, অভিযোগ পাওয়ার পর নোটিশ দিলেও ১০-১৫ দিন পরও তারা সনদপত্র জমা দিতে আসনেনি। এরপর সিভিল সার্জন অফিসের ডাক্তার আতিকুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠালে অভিযুক্তরা ডাক্তারি সনদ দিতে ব্যর্থ হয়।

এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে, ডাক্তারকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ জানান, পুলিশ গিয়ে ভুয়া ডাক্তারদের খুঁজে পায়নি।

Facebook Comments