টঙ্গীতে হলুদ সাংবাদিকদের ‘খরচা বাণিজ্য’

0
15
Print Friendly, PDF & Email
tongi map

টঙ্গীতে হলুদ সাংবাদিকদের অপতৎপরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।  এসব হলুদ ও নামধারী সাংবাদিকদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে টঙ্গীবাসী।  বিশেষ করে এসব সাংবাদিকরা টঙ্গীর বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের নাম করে আয়োজকদের কাছে মোটা অংকের ‘খরচা’ দাবি করে থাকে।  তাদের দাবি অনুযায়ী ‘খরচা’ না দিলে আয়োজকদের বিরুদ্ধে নানা ধরণের কুৎসা রটানোসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সম্মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, টঙ্গীতে সাংবাদিক নামধারী কয়েকজন মিলে ভূঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠন তৈরি করে। এসব সংগঠনের নামধারী সাংবাদিকরা ঢাকা থেকে আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রকাশিত কিছু পত্রিকার পরিচয়পত্র ৫শত টাকা থেকে ২হাজার টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করে গলায় ঝুলিয়ে সাংবাদিক বলে লোক সমাজে নিজেকে জাহির করে।  কখনো কখনো পরিচয়পত্রবিহীন প্রেসখচিত কেবলমাত্র ফিতা গলায় ঝুলিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এমনকি থানা পুলিশের কর্তা ব্যক্তিদের নিকট গিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাপক চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে।  এ সকল নামধারী সাংবাদিকদের নেই কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা।  এদের মধ্যে অনেকেই আবার মাধ্যমিক গন্ডিও পেরোয়নি।

অপসাংবাদিকদের দৌরাত্বের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, থানা পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ চরম বিপাকে রয়েছেন।  প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোন আমন্ত্রণপত্র না পেলেও নামধারী ওই সাংবাদিকরা দল বেঁধে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয়।  সংবাদ লেখা বা প্রকাশের কোন প্রকার যোগ্যতা না থাকলেও তারা সবার আগে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত আসন দখল করে বসে থাকে।  এ ধরণের হলুদ ও অপসাংবাদিকদের কারনে প্রকৃত ও পেশাদার স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নানা জায়গায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।  এমনকি অপসাংবাদিকদের চাপে কতিপয় প্রকৃত সাংবাদিক তাদের পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও একাধিক স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান।

সম্প্রতি টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় দাঁবড়ে বেড়ানো এসব হলুদ সাংবাদিকরা শুধু চুরি, ছিনতাই, অজ্ঞান পাঠির সদস্য হিসেবেই পরিচিত নয়, কেউ পত্রিকার হকার, কেউ আবাসিক বা খাবার হোটেলের ম্যাসিয়ার, কারো কারো বিরুদ্ধে রয়েছে মুরগী, মোবাইল এমনকি মোটর সাইকেল চুরির অভিযোগ।  আবার কারো কারো বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক সেবন বা মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।  এদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের দৌরাত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে।  কথিত ওই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে টঙ্গী থানাসহ জেলার একাধিক থানায় বিভিন্ন অপরাধে মামলা বা অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে ওইসকল নামধারী সাংবাদিকরা সিটি করপোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়ে পারিশ্রমিক দাবি করে হিসাব বিভাগের কর্মকর্তার কক্ষে ভীড় জমায় এবং হিসাব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সামনে প্রায় দুই ঘন্টা অবস্থান করে।  মেয়রের অনুমতি ছাড়া তাদেরকে টাকা দিতে না পারায় তার বিরুদ্ধে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।  এদের এই অপতৎপরতায় অতিষ্ঠ টঙ্গীতে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পেশাদার সংবাদকর্মীগণ এবং স্থানীয় সচেতনমহল ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে এদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

Facebook Comments