কাপাসিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

0
9
Print Friendly, PDF & Email
1401447237

কাপাসিয়ায়  প্রতিবেশী প্রতিপক্ষ প্রকাশ্যে স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হুমায়ুন কবির (৩২) ওরফে গালকাটা হুমায়ুন’কে শুক্রবার সকালে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার পর তার পিতা নূরুল ইসলাম’কেও উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। কাপাসিয়া থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর মর্গে পাঠিয়েছে।

হুমায়ূন কবির ওরফে গালকাটা হুমায়ূন হত্যা-খুন, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সহ একাধিক মামলার আসামী। নূরুল ইসলামকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ প্রতিপক্ষ মালেকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬০) কে আটক করে। পুলিশ মালেকের বাড়ি থেকে একটি বটি, রক্তমাখা ৩ টি লুঙ্গি ও ১ টি টর্চ লাইট উদ্ধার করে।

জানা যায়, উপজেলা সদর ইউনিয়নের কান্দানিয়া গ্রামের নূরুল ইসলামের সাথে প্রতিবেশী চাচাত ভাই মালেকের র্দীঘ দিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গাজীপুর আদালত ও কাপাসিয়া থানায় পাল্টা-পাল্টি একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার গ্রাম্য শালিস হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে হুমায়ুন পার্শবর্তী একটি দুগ্ধ খামার থেকে দুধ আনতে যায়। এ সময় প্রতিপক্ষ চাচাত ভাই মালেক মোড়ল ও তার তিন পুত্র আমান উল্লাহ্ মোড়ল, ছানাউল্লাহ মোড়ল ও বিল্লাল মোড়ল বাড়ির পাশের জঙ্গলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকে। জঙ্গলের ভিতরের রাস্তা দিয়ে দুধ নিয়ে বাড়ি ফিরার পথে তার উপর হামলার করে।

প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে  এলোপাথারী ভাবে কুপিয়ে হাত-পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সন্ত্রাসীরা হুমায়ূনের বাড়িতে গিয়ে তার পিতা নুরুল ইসলামকেও কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনার সময় মুষলধারে বৃষ্টি পড়ায় আশপাশের কেউ টের না পাওয়ার আগেই দুস্কৃতিকারী ঘাতকেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। বৃষ্টির পর জানাজানি হলে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যায়। র্নিমম ও নৃশংস এ হত্যাকান্ড দেখার জন্য হাজার-হাজার নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে ভীর জমায়।

হুমায়ূন কবির যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার চার্জশীট ভূক্ত আসামী। প্রায় ১ বছর পূর্বে সে বিয়ে করে। তার স্ত্রী আছমা গর্ভবতী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

Facebook Comments
শেয়ার করুন