পবিত্র শব-ই-বরাত উদযাপিত

0
8
Print Friendly, PDF & Email
14062014031723SHOB-E-BARAT-

ডেস্ক রিপোর্ট: যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাব গম্ভীর পরিবেশে মহিমান্বিত সৌভাগ্যের রজনী খ্যাত পবিত্র শব-ই-বরাত উদযাপিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো প্রতিবছরের ন্যায় বাংলাদেশেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার দিবাগত সন্ধ্যার পর অর্থাৎ মাগরেবের নামাজ থেকে শুরু করে ভোররাতে ফজরের নামাজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ এবাদত বন্দিগীতে মগ্ন ছিল। কেননা- মুসলমানদের জীবনে মহান আল্লাহ্ যে কয়টি রাতকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন লাইলাতুল বরাত বা শব-ই-বরাত এগুলোর মধ্যে অন্যতম। রাতভর ইবাদত বন্দেগীর মধ্যদিয়ে মহান আল্লাহ তা’আলার অন্গ্রুহ, ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সিয়াম সাধনার প্রস্তুতির এ রাতে কৃতকর্মের জন্য পরম করুণাময়ের দরবারে ক্ষমা চান সবাই।
পবিত্র এ রজনীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইবাদত বন্দেগীসহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে শুক্রবার বাদ মাগরিব থেকে ইবাদত বন্দেগী শুরু হয়েছে এবং চলে বাদ ফজর পর্যন্ত। এ উপলক্ষে বায়তুল মোকারমের কর্মসূচির মধ্যে ছিল- তেলওয়াতে কালাম পাক, আলোচনা, ওয়াজ মাহফিল, হামদ্, না’ত, নফল ও তাহাজ্জুদের নামাজ এবং আখেরী মোনাজাত।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা আলাদা বাণী বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে। এদিকে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে আজ শনিবার সরকারি ছুটি।
বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে রাতভর চলে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল ও অন্যান্য এবাদত-বন্দেগী। মুসলমানদের বিশ্বাস, মহিমান্বিত এই রাতে মহান আল্লাহতায়ালা মানুষের ভাগ্য অর্থাৎ তার নতুন বছরের রিজিক’নির্ধারণ করে থাকেন। রাতব্যাপী এবাদত, বন্দেগী, জিকির ছাড়াও এ পবিত্র রাতে মুসলমানরা মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করেন। পবিত্র এ রাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররকসহ দেশের সকল মসজিদ রাতভর ছিল খোলা।
এদিকে পবিত্র শব-ই-বরাতে বাঙালি মুসলিম সমাজে একটি আনন্দঘন সামাজিক দিকও রয়েছে। এদিন মুসলমানদের বাড়িতে সাধ্যানুযায়ী হালুয়া, পায়েস, রুটিসহ উপাদেয় খাবার রান্না করা হয়েছে। এসব খাবার আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীর বাড়িতে পাঠানো ও গরিব দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। অনেকে মুক্ত হস্তে দান খয়রাতও করে থাকেন।
হিজরি বর্ষপঞ্জীর শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত। পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা বা আত্মসংযমের প্রস্তুতি হিসেবেই শবে বরাতের রাতটি মুসলমানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ তা’আলা এ রাতে বান্দাদের জন্য অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিগত জীবনের ভুল ভ্রান্তি, পাপ ও তাপের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নফল নামাজ, জিকির আজকার, পবিত্র কুরআন তেলায়াওয়াতের মধ্যদিয়ে বিনিদ্র রাত কাটিয়ে বিনম্র প্রার্থনা করেন ভবিষ্যৎ জীবনের পরিশুদ্ধতার জন্য।
মাগরেবের নামাজের পর থেকেই সারাদেশের মসজিদগুলোতে শুরু হয় মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত। এর পর ভোর রাত সোবেহ সাদিক পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগীতে মগ্ন ছিল মুসল্লিরা। একই সাথে প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করার মধ্যদিয়ে রাতটি অতিবাহিত করা হয়। এছাড়া শব-ই-বরাত উপলক্ষে আজ শনিবার নফল রোজাও রাখবেন অনেকে।

Facebook Comments
শেয়ার করুন