লাশের কাছে যেতে পারছে না পুলিশ ও প্রশাসন

0
6
Print Friendly, PDF & Email
mirpur bg 267781823

গাজীপুর২৪.কম নিউজ ডেস্ক : পবিত্র শবেবরাতের রাতে আতশবাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশীতে শনিবার ভোরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১০ জন মারা গেছেন। এই লাশগুলো রাখা হয়েছে কালশীর মোনাপাড়া বিহারি ক্যাম্পের ভিতরে স্ট্যান্ডেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপেট্রিয়েশন কমিটির কার্যালয়ে। সেখানে শত শত নারী-পুরুষ লাশ ঘিরে রেখেছে। ঘটনার পর প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও পুলিশ কিংবা প্রশাসন সেখানে পৌঁছাতে পারছে না। দুপুরের দিকে একবার ঢাকা জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া লাশের কাছাকাছি যেতে পারলেও বিহারিদের প্রবল বাধার মুখে তাকে সেখান থেকে সরে আসতে হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা প্রশাসক সেখানে গিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি হ্যান্ড মাইকে করে লাশ ফিরিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক কাজ করতে দেওয়ার আহ্বান জানালে বিহারিরা তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক তার বক্তব্য বন্ধ করে দেন। এর কিছু পর জেলা প্রশাসক আবার তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এদিকে পুলিশও সেই ক্যাম্পের আশপাশে যেতে পারছে না।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, লাশ গুম হওয়ার আশঙ্কায় তারা লাশ হস্তান্তর করছেন না। বিষয়টি নিয়ে তারা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সঙ্গে আলোচনা করছেন। রেডক্রিসেন্ট আটকে পড়া পাকিস্তানিদের দেখভাল করে থাকে। দুপুরের দিকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ, কিন্তু লাশ ঘিরে ব্যাপক বিহারি নারী-পুরুষ অবস্থান নেওয়ায় এবং বাধার মুখে সেখানে যেতে পারছে না পুলিশ।
দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস-এর পাশের রাস্তা থেকে প্রায় ১৫ জন বিহারি যুবককে একসঙ্গে ধরে প্রিজন ভ্যানে উঠিয়ে নেয় পুলিশ। এ ছাড়াও ক্যাম্পের ভেতর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে আরো পাঁচজনকে আটক করেছে। এখনো সেখানকার পরিস্থিতি থমথমে। যেকোনো সময় আবারো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

Facebook Comments
শেয়ার করুন