সাকার রায় ফাঁস-ব্যারিস্টার ফখরুলের জামিন আবেদন খারিজ

0
19
Print Friendly, PDF & Email
fakrul-mirza-alam

নিউজ ডেস্কঃ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি  গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২২ এপ্রিল ব্যারিস্টার ফখরুলকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি  জেনারেল মাহবুবে আলম। তাকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এএসএম নাজমুল হক।
সাকা চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ের খসড়া প্রকাশের ঘটনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলায় কারাগারে আটক আছেন ব্যারিস্টার ফখরুল।
গত বছরের ২০ নভেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় তার চেম্বার থেকে ব্যারিস্টার ফখরুলকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
গত বছরের ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন। আগের রাতে রায়ের খসড়ার অংশবিশেষ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পরে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী ও তার স্ত্রী-পুত্ররা কথিত ওই রায়ের বাঁধাই কপি দেখিয়ে রায়টি আইন মন্ত্রণালয়ের করা এবং রায় ঘোষণার আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন।
এ ঘটনায় ২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা চেয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করেন। আদালত এর তদন্তের নির্দেশ দেন ডিবি পুলিশকে।
তদন্তভার পাওয়ার পর ৪ অক্টোবর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ট্রাইব্যুনালের রায় কম্পোজ করা কম্পিউটারটি জব্দ করে অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে। ফুটেজ দেখে ট্রাইব্যুনালের মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত অস্থায়ী কর্মচারী (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) নয়ন আলীকে (২০) চিহ্নিত করা হয় যে, ওই কম্পিউটার থেকে রায়ের কপি তিনিই বের করে নিয়ে যান। ওই দিনই গ্রেফতার করা হয় নয়নকে।
নয়নকে গ্রেফতারের পর তিনি রায় ফাঁসের খসড়া কপি পেনড্রাইভে নিয়ে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের সহকারী মেহেদী হাসানকে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তার বক্তব্য অনুসারে এ ঘটনায় জড়িত বলে চিহ্নিত করে সেদিনই গ্রেফতার করা হয় ট্রাইব্যুনালের অফিস সহকারী ফারুক আহমেদকে।
পরে যে কম্পিউটারে এই রায়ের কপি ট্রান্সফার করা হয়েছে সেই কম্পিউটার জব্দ করে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ নয়ন আলী, ফারুক ও মেহেদী হাসানসহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ এবং ৬৩ ধারায় অপরাধ মামলা করে।
৫ অক্টোবর গ্রেফতারকৃত দুই ট্রাইব্যুনাল কর্মচারী নয়ন আলী ও ফারুককে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল ডিবি পুলিশ। ১০ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।
৭ অক্টোবর গ্রেফতারের আশঙ্কায় হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানালেও ব্যারিস্টার ফখরুলকে জামিন দেননি হাইকোর্ট।

Facebook Comments