ব্রাজিলকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে ফাইনালে জার্মানি

0
20
Print Friendly, PDF & Email
Brazil

গাজীপুর নিউজ ডেস্কঃ ব্রাজিলের সূচনা দেখে বুঝা যায়নি ম্যাচের পরিণতি কি হবে! কিন্তু ১০ মিনিটে ম্যাচের আয়ুষ্কাল ১১ মিনিটে পা রাখতেই পাল্টে গেছে যান্ত্রিক জার্মিানি। ম্যাচের প্রাক-আলোচনার সঙ্গে বিন্দু-বিসর্গ মিল নেই ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। একের পর এক গোল মাত্র ৬ মিনিটের ব্যবধানে ৪টি গোল করেছে যান্ত্রিক জার্মানি। আর ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আধ ঘণ্টার মধ্যেই ৫ গোল স্বাগতিক ব্রাজিলের জালে তাতে শশ্মানের নিরবতা এনে দিয়েছে গোটা স্টেয়িামে। পরের ৬০ মিনিটে তার সঙ্গে যোগ হয়েছে আরো ৩টি গোল। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে জার্মানির ৭ গোলের বিপরীতে স্বাগতিকরা করেছে মাত্র একটি গোল। জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের শেষ হয়েছে হেক্সা মিশনের স্বপ্ন। অন্যদিকে ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে ৩ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শুরুর আগে ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার রোনালদো বলেছিলেন, নেইমার নয় অধিনায়ক থিয়েগো সিলভার অভাব অনুভব করবে দল। তার কথা ফলে গিয়েছে ম্যাচের ৩০ মিনিটেই। স্বাগতিকদের দুর্বল ডিফেন্স ভেঙে এই ৩০ মিনিটে জার্মানি করেছে ৫ গোল।
বিশ্বকাপের ২০তম আসরের প্রথম সেমিফাইনালে একে অন্যের বিপক্ষে ফুটবল লড়াই করছে স্বাগতিক ব্রাজিল ও ইউরোপীয় ফুটবল পাওয়ার হাউজ জার্মানি। ম্যাচের শুরুটা ভালোই করেছে ব্রাজিল। প্রথম মিনিটেই কর্নার আদায় করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। ডানপ্রান্ত দিয়ে অস্কারের নেয়া কর্নার ক্লিয়ার করেছেন জার্মানির ডিফেন্ডাররা। পরের মিনিটেই ফের সুযোগ এসেছিল দ্য সাম্বা কিংসদের। বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছেন ডিফেন্ডার মার্সেলো। তার শটে বল পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে চলে গেছে। এর পরের গল্প শুধুই জার্মানির। স্বাগতিকদের নিয়ে রীতিমতো ছেলে-খেলায় মেতে উঠেছে ডার মানশাফটরা। ১১ মিনিটে সুযোগ কাজে লাগিয়েছে জার্মানি। টনি ক্রুসের কর্নারে। বক্সে বল পেয়েছেন থেকে থমাস মুলার। ভুল করেননি ২৪ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড। তার শটে ব্রাজিলের গোলরক্ষক হুলিও সিজার কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বল জালে জড়িয়েছে (১-০)। ২৩ মিনিটের ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন ক্লোসা। বক্স থেকে নেওয়া ক্লোসার শট প্রথমে ফিরিয়ে দিয়েছেন হুলিও সিজার। ফিরতি বলে ফের শট নিয়েছেন এ ফরোয়ার্ড। এবার আর কিছুই করার ছিল না সিজারের। ২-০ গোলে এগিয়ে গেছে জার্মানি। ক্লোসার এটি বিশ্বকাপের ১৬তম গোল। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটা এখন এককভাবে তার দখলে। এর আগে ১৫টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যুগ্মভাবে শীর্ষে ছিলেন ব্রাজিলের ফুটবলার রোনালদো ও ক্লোজা।
২৪ মিনিটে জার্মানির পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেছেন টনি ক্রুস। ২৬ মিনিটে সামি খেদিরার কাছ থেকে বল পেয়ে দলের পক্ষে চতুর্থ ও ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটিও করেছেন ক্রুস। ২৯ মিনিটে মেসুত ওজিলের ক্রসে পঞ্চমবারের মতো ব্রাজিলের জাল কাঁপিয়েছেন উইঙ্গার খেদিরা। ৫-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে জার্মানি।
বিরতির পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে খেলেছে ব্রাজিল। ৫১ মিনিটে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে একা পেয়েও ব্যর্থ ছিলেন ফ্রেদ। তিনি সরাসরি গোলরক্ষক নয়্যারের হাতে বল মেরেছেন। ২ মিনিট পর বক্স থেকে নেওয়া পাওলিনহোর শট ফিরিয়ে দিয়েছেন নয়্যার। ফিরতি বলে ফের শট নিয়েছেন পাওলিনহো। এবার ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ফিরিয়ে দিয়ে দলকে বিপদ মুক্ত করেছেন জার্মানির গোলরক্ষক। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ক্লোসাকে ওঠিয়ে নিয়েছেন কোচ জোয়াকিম লো। তার পরিবর্তে মাঠে নেমেছেন আন্দ্রে শুরলে। জোয়াকিম লোর এ কৌঁশলটাও কাজে লেগেছে। ৬৯ মিনিটে আন্দ্রে শুরলে দলের পক্ষে ষষ্ঠ গোলটি করেছেন। এরিক ডর্মের ক্রসে বল জালে ঠেলে দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড। ৭৯ মিনিটে জার্মানির পক্ষে সপ্তম গোলটিও করেছেন তিনি। মুলারের লম্বা ক্রস বক্স থেকে রিসিভ করেছেন আন্দ্রে শুরলে। পরে বাঁ পায়ের শটে ব্রাজিলের জাল কাঁপিয়েছেন তিনি। ৭-০ গোলে এগিয়ে গেছে জার্মানি।
৯০ মিনিট শেষে একটি গোল পরিশোধ করেছে অস্কার। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের বিপদ সীমানায় ঢুকে পরেছেন অস্কার। পরে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের হাতের নিচ নিয়ে বল জালে পাঠিয়েছেন তিনি। ৭-১ গোলে হেরে মাঠ ছেড়েছেন ব্রাজিলের ফুটবলাররা। এই ম্যাচেও দুরন্ত কিপিং করেছেন নয়্যার। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কটি আক্রমণ থেকে কোনো ফল আদায় করতে দেননি আলোচিত এই জার্মান গোলরক্ষক। বুধবার আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে জার্মানির মুখোমুখি হবে।
এটাই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে যে কোন দলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড। এর আগে ১৯৩০ সালের সেমিফাইনালে আর্জেূন্টিনা ৬-১ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে এবং অপর সেমিফাইনালে উরুগুয়ে একই ব্যবধানে যুগোস্লাভিয়াকে হারিয়েছিল। এরপর ১৯৫৪ সালের সেমিফাইনালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি ৬-১ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়েছিল।

Facebook Comments