টঙ্গীতে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে মারধর

0
22
Print Friendly, PDF & Email
Tongi

গাজীপুর নিউস ডেস্কঃ টঙ্গী আরিচপুরের বাসিন্দা পান ও মাদক ব্যবসায়ী ও অর্থলোভী আশরাফুল আলম পল্টনের দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী খুরশিদ আক্তার সোনিয়াকে মারধর করার ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে পল্টন, কাজল ও মেরাজকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে টঙ্গী থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৪। এঘটনায় অভিযুক্ত মেরাজকে শুক্রবার রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, আরিচপুর মসজিদ রোড এলাকায় আলমের ছেলে পান ও মাদক ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম পল্টনের সাথে চার বছর পূর্বে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার খোরশেদ আলমের মেয়ে সোনিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর গত বছরের ৯ অক্টোবর-২০১৩ ইং ৩’শ টাকা মুল্যের নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পের মাধ্যমে প্রতারণার উদ্দেশে ব্যবসায়ীক কথা বলে ৬ লক্ষ টাকা ধার নেয়। টাকা নেওয়ার পর উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে গৃহবধূকে নির্যাতন শুরুসহ আরো ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এক পর্যায় সোনিয়া টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মৌখিক তালাক দেয়। এমনকি আরো একটি বিয়ে করে। এঘটনার পর চলতি মাসের ৩ জুলাই সোনিয়া তার পাওনা ৬ লক্ষ টাকা ফেরৎ চাইলে তাকে মারধর করে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়। একের পর এক পল্টনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গত শুক্রবার রাতে সোনিয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে টঙ্গী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সোনিয়া বলেন, নারী ও অর্থলোভী মাদক ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম পল্টন আমার পূর্বে মিনারা নামে আরো এক মেয়েকে বিয়ে করে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করে। এঘটনায় তার প্রথম স্ত্রী বাদি হয়ে গাজীপুর আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেন। মামলাটি এখনো চলমান। বর্তমানে সোনিয়া তার দেড় বছরের শিশুকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এব্যাপারে পল্টনের প্রথম স্ত্রী মিনারার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পল্টন ১৫/১৬ বছরের স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের সাথে প্রথমে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলে। তারপর বিয়ে করে টাকার জন্য অত্যাচার শুরু করে। এপর্যন্ত সে ৩ টি বিয়ে করেছে। এছাড়াও সে টঙ্গী এলাকার ইয়াবা ট্যাবলেটের পাইকারী বিক্রেতা। ইতিপূর্বে সে ঢাকায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়ে জেল খেটে বেরিয়ে এসেছে। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। এ বিষয়ে প্রতারক আশরাফুল আলম পল্টনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে টঙ্গী থানার ওসি ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

Facebook Comments