কাপাসিয়ায় ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস

0
19
Print Friendly, PDF & Email
img-single 11256kapasia

কাপাসিয়ায় মরহুম মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিনের নাতনী বাকপ্রতিবন্ধী শিশু’কে গত বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রতিবেশী জয়ন্তু কুমার পাল অপহরণ করে ধর্ষণের ঘটনায় রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় সমবেত এলাকাবাসীর ধর্ষকের শাস্তির দাবীর প্রেক্ষিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।

ধর্ষিতার সুচিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং পরবর্তিতে যে কোন ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় এলাকাবাসীর মাঝে উপস্থিত ছিলেন, ধর্ষিতার পিতা শামীম শেখ, আবুল হোসেন, ফারুক হোসেন, আইয়ূবুর রহমান, সাংবাদিক ফকির কামাল, নুরুল আমীন সিকদার, মজিবুর রহমান, শিক্ষক নুরুল ইসলাম ফরিদ, ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ প্রমূখ। এছাড়া ধর্ষকের শাস্তির দাবীতে এলাকায় ও শহরে ব্যাপক পোষ্টারিং করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের জুনিয়া গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষিত প্রতিবন্ধী শিশু জুনিয়া গ্রামে ফুলকুড়ি  প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী (১২)।

কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী স্বপন কুমার পালের লম্পট ও বখাটে ছেলে ধর্ষক জয়ন্ত কুমার পাল ধর্ষিতার মা ও দাদির গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য হুমকি প্রদান করে। ধর্ষক জয়ন্ত কুমার পালের (৩০) বিরুদ্ধে এলাকায় এ ধরনের লাম্পট্যের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।

পরদিন সকালে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে এলাকাবাসি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি ধর্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ধর্ষণকারী জয়ন্ত কুমার পালকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

ধর্ষিতার পিতা শামীম শেখ জানান, গত বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর বাকপ্রতিবন্ধী শিশু কন্যা বাড়ির পাশে খেলছিল। ওই সময় সে পাশের মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়তে যান। ঘরে নামাজ পড়ছিলেন তাঁর স্ত্রী। এ সুযোগে এক সন্তানের জনক লম্পট জয়ন্ত কুমার পাল গলায় দা ঠেকিয়ে তাঁর শিশু কন্যাকে ধরে নিয়ে যায়। পাশের সব্জিখেতে নিয়ে তাঁর শিশু কন্যাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর জয়ন্ত কুমার সব্জিখেত থেকে বের হওয়ার সময়ে তাঁর মা টের পেয়ে ধর্ষিত শিশুকে উদ্ধার করে।

ধর্ষিত শিশুর দাদী জানান, উদ্ধারকালে তাঁর নাতনী যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। প্রায় আধা ঘণ্টা পর ধর্ষণকারী জয়ন্ত কুমার তাদের বাড়িতে গিয়ে তার ও ধর্ষিত শিশুর মায়ের গলায় দা ধরে ঘটনা কারো কাছে প্রকাশ করতে নিষেধ করে। প্রকাশ করলে তাঁর নাতনিকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয় জয়ন্ত।

পরদিন শুক্রবার সকালে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে ফুলকুঁড়ি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা ধর্ষকের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শহরের প্রধান সড়কে মিছিল করে। এ সময় পুলিশী বাধায় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে মিছিল শেষে জনতা ধর্ষকের বাড়ি ঘিরে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ধর্ষণকারী জয়ন্ত কুমার পালকে গ্রেপ্তার করে।

ফুলকুড়ি প্রতিবন্ধী স্কুলের পরিচালক মিজানুর রহমান সৈকত জানান, ধর্ষিত শিশুটি এ বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ধর্ষক জয়ন্তুর ফাঁসি দাবী করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

Facebook Comments