পেটুক ব্যাঙের দাপটে নাজেহাল ওবামা প্রশাসন

0
5
Print Friendly, PDF & Email
bang 39640 0

ডেস্ক রিপোর্ট: রাক্ষুসে খিদে নিয়ে এসে পড়েছে ওরা৷ সর্বভুক বলতে যা বোঝায়, ঠিক তাই৷ চলার পথে যা কিছু পড়ছে মুখের সামনে অনায়াসে আর অক্লেশে গিলে ফেলছে সব কিছুই৷ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের সব রকমের অস্ত্র দিয়েও রোখা যাচ্ছে না৷ কী মনে হচ্ছে? ফের কোনও কল্পবিজ্ঞানের গল্প? আবার কোনও ভয়ানক জীবের খপ্পরে পড়ল নাকি আমেরিকা? সিনেমায় তো এমনই হয়৷ ভিনগ্রহীরা বা সাংঘাতিক কোনও জন্তু সারা বিশ্বকে বাদ দিয়ে বেছে নেয় আমেরিকাকেই৷ তার পর একেবারে শেষ দৃশ্যে নিতান্ত কপালজোরে প্রাণে বাঁচেন মার্কিনরা৷ ঘটনা একবারে সিনেমার মতো লাগলেও এবার সত্যিই রাক্ষুসে খিদের অধিকারী একদল প্রাণীর মুখে পড়েছে আমেরিকার মন্টানা৷ রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ইয়েলোস্টোন নদীর পাড় বরাবর অনেকটা জায়গায় এই প্রাণির দাপট ক্রমশ বাড়ছে৷ ভাবছেন, কী এমন প্রাণী যা চিন্তায় ফেলেছে আমেরিকাকেও? শুনে হাসবেন৷ বারাক ওবামার প্রশাসন আপাতত জেরবার ব্যাঙের দাপটে৷ হ্যাঁ, ব্যাঙ৷ আমেরিকান বুলফ্রগ বা রানা ক্যাটেসবিয়েনার একটি বিরাট দল ছেয়ে ফেলেছে আমেরিকার ওই অঞ্চল৷ দৈর্ঘে এই প্রজাতির ব্যাঙ এক ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে৷ আমেরিকার পূর্ব দিকের রাজ্যগুলিই এই প্রজাতির ব্যাঙের স্বাভাবিক বাসস্থান৷ তবে, নর্থ ডাকোটা বাদ দিলে গোটা দেশের সর্বত্রই দেখা মেলে এদের৷ আপাতত এই বিশেষ প্রজাতির কোলা ব্যাঙ ইয়েলোস্টোন নদীর পাড় বরাবর অন্তত ১০৬ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের আওতায় এনে ফেলেছে৷

জীববিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রজাতির ব্যাঙের খিদে মিটতেই চায় না৷ এদের গতিপথে যা কিছু পড়ে, খাবার বা অন্য কোনও ছোট প্রাণি এমনকি নিজের প্রজাতির ব্যাঙ হলে তাদেরও এরা অক্লেশে খেয়ে ফেলে৷ এর ফলে পরিবেশের যথেষ্ট ক্ষতি হয়৷ অনেক ক্ষেত্রেই একেবারে নিচের স্তরের খাদকদের সংখ্যা ভীষণভাবে কমে গিয়ে ভেঙে পড়ে একটা বিরাট অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র৷ মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের জীববিজ্ঞানী অ্যাডাম সেপুলভেডা জানাচ্ছেন, আমেরিকার এই অঞ্চলে এই প্রজাতির ব্যাঙের প্রাদুর্ভাব একেবারেই স্বাভাবিক নয়৷ তাঁর অনুমান, নিশ্চয় মাছ ধরার জন্য এই জাতীয় ব্যাঙ বা ব্যাঙাচিকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছিল কোনও মৎস্যশিকারী৷ সম্ভবত তারই মধ্যে কয়েকটি প্রাণে বেঁচে গিয়ে এই এলাকায় বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে৷ এখনও পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন এই প্রজাতির ব্যাঙের সংখ্যা কমাতে বা আশপাশে তাদের ছড়িয়ে পড়া রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে৷ কথা উঠেছিল বিষ প্রয়োগ করে ব্যাঙের বংশ ধ্বংস করার৷ কিন্তু তেমন করলে শুধু ব্যাঙই নয় স্থানীয় ছোটখাটো বহু প্রজাতির প্রাণীর অস্তিত্বই বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ তাই থামতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে৷ কিন্তু কী উপায়ে এই রাক্ষুসে ব্যাঙের গতিরোধ করা যাবে, তার জবাব এখনও অধরাই৷

Facebook Comments
শেয়ার করুন