কম বয়সিদের ওরাল সেক্স-সুখে বাড়ছে ক্যান্সার

22
oral-cancer-

যৌনসুখের মাধ্যম হিসেবে বিশেষত কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বাড়ছে ওরাল সেক্সের প্রবণতা৷ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ঢাকাও৷ যার জেরে এ শহরেও বাড়ছে ক্যান্সার আক্রান্তের ঘটনা৷বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ওরাল সেক্স বাড়ছে এই শহরেও৷বিশেষত, এই ধরনের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ৷আর, তার জেরে ওরাল অর্থাৎ, মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও আগের তুলনায় বেশি দেখা দিচ্ছে কল্লোলিনী এই তিলোত্তমায়৷ওরাল সেক্সের জন্য দেখা দিচ্ছে সার্ভিক্স অর্থাৎ, জরায়ুর ক্যান্সারও৷ সাধারণত তামাকজাত বিভিন্ন দ্রব্যের ব্যবহার এবং মদ্যপানের কারণে ওরাল ক্যান্সার হয়৷ এর মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তামাকজাত বিভিন্ন দ্রব্যের ব্যবহারই ওরাল ক্যান্সারের জন্য অন্যতমভাবে দায়ি৷ তবে, ওরাল সেক্সও যে ওরাল ক্যান্সারের জন্য দায়ি, তাও ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে৷ বিভিন্ন সমীক্ষা এবং গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, বিভিন্ন দেশে বিশেষত, কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ওরাল সেক্সের প্রবণতা রয়েছে৷ আর, ওই প্রবণতাই ডেকে আনছে ওরাল ক্যান্সারের মতো বিপদ৷ ওরাল সেক্সের জন্য যে ওরাল ক্যান্সারের শিকার হতে হচ্ছে, তার জন্য দায়ি হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)-এর ১৬ নম্বরটি অর্থাৎ, এইচপিভি-১৬৷জরায়ুর ক্যান্সারের জন্যও অন্যতমভাবে দায়ি এই এইচপিভি-১৬৷তবে, আশার বিষয় হল, ওরাল সেক্সের কারণে যে ওরাল ক্যান্সার হয়, তা সম্পূর্ণ সেরে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে৷এর চিকিৎসায় ভালো সাড়াও মেলে৷ চিকিৎসা বলতে কেমো এবং রেডিওথেরাপি৷তবে, রোগনির্ণয়ের বিষয়টি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷কারণ, প্রাথমিকস্তরে যদি ওরাল ক্যান্সার ধরা না পড়ে, তা হলে বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়৷ওরাল সেক্সের জন্য আবার জরায়ুর ক্যান্সারও হতে পারে৷ সেক্ষেত্রেও দ্রুত রোগনির্ণয় সম্ভব হলে, এড়ানো যেতে পারে বড় মাপের বিপদ৷

যদিও, এইচপিভি-১৬-এর সংক্রমণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে ওরাল অথবা জরায়ুতে ক্যান্সার হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয়৷ এই ভাইরাস সংক্রমণের বেশ কয়েক বছর পর দেখা দিতে পারে ক্যান্সার৷ওরাল সেক্সের বিষয়টি ব্যক্তিগত রুচির আওতাধীন৷কাজেই, এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেই ভালো৷ওরাল সেক্সের জন্য যে ওরাল ক্যান্সার হতে পারে, সেই বিষয়েও চিকিৎসকদের আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন৷বিভিন্ন দেশের বিশেষত কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ওরাল সেক্সের প্রবণতা রয়েছে৷বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায়বাড়ছে ওরাল সেক্সের প্রবণতা৷ ওরাল সেক্সের কারণে ঢাকায় কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে ওরাল অথবা জরায়ুর ক্যান্সার, সে বিষয়ে এখানে পৃথক কোনও সমীক্ষা হয়নি৷ তবে, একজন চিকিৎসক হিসেবে বলতে পারি, ওরাল সেক্সের কারণে ঢাকাতেও আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে ওরাল ক্যান্সারের ঘটনা৷ওরাল সেক্সের কারণে সঙ্গী অথবা সঙ্গিনী, যে কারও ক্ষেত্রেই ওরাল ক্যান্সারের আশঙ্কা থেকে যায়৷কারণ, এইচপিভি হল ডবল-স্ট্যান্ডার্ড ডিএনএ ভাইরাস৷ এই ভাইরাস ত্বকের এপিথেলিয়াল কোষে বাসা বেঁধে থাকতে পারে৷ বিশেষত মুখের ভিতর, গলা, জিহ্বা, টন্সিল, যোনি, যোনিদ্বার, জরায়ু, মলদ্বার, লিঙ্গমুখ – এমন সব স্থানের আর্দ্র এপিথেলিয়াল কোষের উরিভাগের অংশে৷ ফলে, যৌন সম্পর্কের সময় ত্বকের সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে যেতে পারে একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে৷কাজেই, সঙ্গী অথবা সঙ্গিনী, যে কেউ-ই ওরাল সেক্সের কারণে আক্রান্ত হতে পারেন ওরাল ক্যান্সারে৷অন্যদিকে, ওরাল সেক্সের কারণে সারভিক্স অর্থাৎ, জরায়ুর ক্যান্সারেও আক্রান্ত হতে পারেন সঙ্গিনী৷

Facebook Comments