প্রতিটি মানুষের স্ত্রী থাকা দরকার: এরশাদ

0
13
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘বাবার পক্ষে সন্তানের লেখাপড়া বা স্কুলের খবরাখবর ঠিকমতো রাখা সম্ভব হয় না। এজন্য মাকে প্রয়োজন।’অনেকটা অতৃপ্তি নিয়েই বলছিলেন, জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদের। পুত্র এরিকের লেখাপড়ার বিষয় বলতে গিয়ে নিজের এই উপলব্ধির কথা জানান তিনি। মঙ্গলবার এরশাদ তার বনানী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, এরিক সাত বছর ধরে একটি স্কুলে পড়লেও বাস্তবে লেখাপড়ায় তার তেমন কোনো উন্নতি নেই। যার কারণে বর্তমান স্কুলের অষ্টম শ্রেণীতে পড়া সন্তানকে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করিয়েছেন। নিজ কার্যালয়ে আলাপ শেষে বনানীতে একটি রেষ্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজের সময় নানা বিষয়ে কথোপকথনের এক ফাঁকে মুচকি হেসে এরশাদ বলেন, ‘আসলে প্রতিটি মানুষের স্ত্রী থাকা দরকার। না হয় আজকাল সন্তানদের লেখাপড়া করানো যায় না।’ পুত্র এরিকের গত সাত বছরের লেখাপড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বাবা হিসেবে আমি ব্যর্থ। এখন নিজেরই দুঃখ হয়, আমি নিজেই ওর জীবনটা নষ্ট করে দিলাম। তার জীবনের চারটি বছর নষ্ট করলাম। বাপ হিসেবে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। এই অপরাধে আমার শাস্তি পাওয়া উচিত। এতদিন কেউ কখনও আমাকে কিছু বলেনি, জানায়নি। আমি পুরোপুরি প্রতারণার শিকার হলাম। প্রসঙ্গত, এরশাদ পুত্র এরিক এক ধরনের প্রতিবন্ধী।

এবার কোরবানির ঈদের সময় রংপুরে যাওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে নিজ সমর্থকদের দফায়-দফায় মারামারির ঘটনা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, আমি রংপুরের সন্তান, আমি সেখান থেকে বারবার এমপি হয়েছি, আমি দলের চেয়ারম্যান, সেখানে আমি ছাড়া অন্য কারও রাজনীতি চলতে পারে না। রাঙ্গার ভাই আমার ভাগ্নি জামাই। সেই সূত্রে তাকে আমি আদর করতাম। কিন্তু সে এখন যা করছে তা বাড়াবাড়ি, অত্যন্ত দুঃখজনক। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এবার আমি যখন রংপুর গেলাম তখন বিমানবন্দরে গিয়ে দেখি রাঙ্গার লোকজন আমাকে রিসিভ করতে এসেছে। তারা স্লোগান দিতে থাকে ‘এরশাদ-রাঙ্গা এগিয়ে চলো….’ ইত্যাদি। এসময় রাঙ্গা আমার গাড়িতে উঠতে চায়, আমি তাকে উঠতে দিইনি। এই ফাঁকে আমি পৌঁছানোর আগেই তার লোকজন আমার বাড়িতে (পল্লীনিবাস) চলে যায়। খবর রটিয়ে পড়ে রাঙ্গার লোকজন আমার বাড়িতে হামলা করছে। খবর শুনে আমার সমর্থক বহু নারী-পুরুষ লাঠি হাতে সেখানে গিয়ে হাজির হয়। তখন কিছু ঘটনা ঘটে। আর ওইদিন যে আমি পল্লীনিবাসে যাইনি সেটার কারণ ছিল-আমাকে একটি জায়গা থেকে পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছিল যে, তখন সেখানে আমার না যাওয়াই ভালো। সেজন্য আমি সেখানে না গিয়ে পৈতৃক বাড়িতে চাই।

বলা হচ্ছে, আপনি নাকি বিরোধী দলীয় নেতা হতে চান, এজন্যই এতকিছু করছেন-এরকম এক প্রশ্নের জবাবে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এটা ঠিক নয়। আমি বিরোধী দলীয় নেতা হতে চাই না। কখনও চাইওনি। পদের লোভ আমার নেই। আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা, বিএনপির আন্দোলনের বিষয়ে আমার অনুমান কি? এর জবাবে এরশাদ বলেন, এ সরকার কতদিন চলবে, এভাবে রাজনীতি কতদিন চলবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারব না। তবে আমার মনে হয় এ সরকার ৪-৫ বছরই থাকবে। সেরকম আন্দোলন করার মতো বিএনপির সেই অবস্থান নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমি ও আমার দল এই নির্বাচন মেনে নিয়েছি। মনে হচ্ছে জাতিও গ্রহণ করেছে। সেজন্য মনে হচ্ছে তারা পাঁচ বছরই চালিয়ে যাবে। বিশেষ দূত হিসেবে কী কাজ করছেন-প্রশ্ন করা হলে এরশাদ বলেন, আসলে কাজ করার তো সুযোগই পাচ্ছি না। তারপরেও মাত্র তো আট মাস গেল। সময় আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কাজ করতে পারি, সে সুযোগ আমার আছে।

Facebook Comments
শেয়ার করুন