যশোরে ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

0
24
Print Friendly, PDF & Email
sp 19 10 2014 16

আগামী ২৪ অক্টোবর যশোরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়ামে এ ম্যাচ আয়োজনের জন্য চলছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গোটা শহরকে সাজাতে কাজ করছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে পৌরসভার কর্মীরা। শহরের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ। অতিথিদের বরণে স্কুল ও কলেজের বয়েজ ও গার্লস গাইডরা প্রস্তুত। প্রস্তুত রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক দল। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলা সিভিল সার্জনের নের্তৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল টিম।

খেলার ভেন্যু যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়ামকে সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। মাঠ প্রস্তুতির সকল উদ্যোগ সম্পন্ন। এখন গ্যালারী আর বাইরের অংশ চলছে রংতুলির শেষ পর্যায়ের কাজ। বহু দিন পর যশোর স্টেডিয়ামে ফুটবল মাঠে গড়াবে এই আনন্দে আত্মহারা ফুটবলপ্রেমি হাজার হাজার দর্শক। চলছে এই প্রীতি ম্যাচের টিকিট সংগ্রহের প্রতিযোগিতা।

২০ টাকা, ৫০ টাকা ও ২০০ টাকার বিনিময়ে দর্শকরা আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আয়োজকরা আশা করছেন ২০হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়াটিতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ উপলক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার দর্শকের সমাগম ঘটবে। ফলে বাড়তি দর্শকদের ভিড় সামলাতে এবং তাদেরকে নির্বিঘ্নে খেলা দেখার পরিবেশ করিয়ে দিতে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি।

যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের জন্য চলছে জোর প্রস্তুতি। ম্যাচ উপলক্ষে একদিকে চলছে মাঠ সাজগোজার কাজ, অন্যদিকে চলছে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি। এ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে গত সপ্তাহে যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন বাফুফের গ্রাউন্ডস কমিটি। এই কমিটির মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি মুল্যান করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রীতি ফুটবল ম্যাচের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে টিকিট প্রাপ্তির স্থান, তারিখ ও টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করেছে আয়োজক কমিটি। শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রির কাজও। এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচের প্রচার প্রচারণা এখন তুঙ্গে।

টুর্ণামেন্টকে সাফল্যমন্ডীত করতে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা, যশোর ফুটবল ফেডারেশন ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে খেলার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বরণ করতে প্রস্তুত যশোরবাসী বলে জানালেন প্রচার কমিটির আহবায়ক সোহেল আল মামুন নিশাদ।

যশোরের ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের টিকিট প্রাপ্তির সুবিধার্থে শহর ও শহরতলীর ১৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১৯ অক্টোবর, ২০১৪) থেকে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ফিফা প্রীতি ফুটবল ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলা শহরের ১৩টি স্থানে একযোগে এই টিকিট বিক্রি করছে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। দীর্ঘদিন পর যশোরে এরকম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় খুশি যশোরের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ।

এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে যশোরের গ্রামগঞ্জের ফুটবল খেলা আবারও চাঙ্গা হবে। সৃষ্টি হবে নতুন নতুন খেলোয়াড় এমনটাই মনে করেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক ফুটবলার সাব্বির আহমেদ পলাশ।

ফুটবলে যশোরে ঐতিহ্য আছে। এক সময় যশোরের খেলোয়াড়রা দেশের জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের হয়ে তারা বিদেশের মাটিতে সুনাম কুড়িয়েছেন। কিন্তু সময়ের আবর্তে তা স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে যশোরের সেই ফুটবল অঙ্গন আজ নানা দোষে দুষ্ট। ফুটবল বোদ্ধরা মনে করছেন এরকম একটি ম্যাচের মধ্যে দিয়ে যশোরের ফুটবল ইতিহাসকে আবারো বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা যাবে।

আর এই সুযোগে যশোর শামসুল হুদা স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে পরিচিতি করে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন যশোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গোটা যশোরবাসী ফুটবল বীরদের বরণ করতে উন্মুখ হয়ে আছেন। শুরু হয়েছে কাউন ডাউন। জোরছে চলছে প্রচার প্রচারণা। ধুমছে বিক্রি হচ্ছে টিকিট। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা আর অতিথিদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও চুড়ান্ত। সব কিছু মিলে এই আন্তজার্তিক মানের প্রীতি ফুটবল টুর্ণামেন্টকে ঘিরে যশোর ক্রীড়াঙ্গনে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

এদিকে, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ উপলক্ষে যশোরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।

এই প্রীতি ম্যাচের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে যশোরে জেলা প্রশাসক ও জিডিএসএ’র সভাপতি ডঃ হুমায়ুন কবির জানান, যশোরে ফুটবলের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। সেই সমৃদ্ধ ইতিহাসকে আরো স্মরণীয় করতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা আন্তজার্তিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে আশা করা হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শক গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। এর বাইরেও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। আমরা আশা করছি মাঠে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকবেন।

কারণ যশোরের মানুষ এখনো ফুটবলকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে।’

Facebook Comments