মীর কাসেম আলীর ফাঁসি

0
19
Print Friendly, PDF & Email
kasem-435

ডেস্ক রিপোর্ট: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মীর কাসেম আলির ফাঁসির আদেশ। রোববার সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে ৩৫১ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত এই রায় পড়া শুরু হয়। রায় পড়ছেন বিচারপতি ওবাইদুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় পাঠকালে মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার সকাল ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় মীর কাসেম আলীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন। গত ৪ মে আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখে মামলাটি (সিএভি) ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। মীর কাসেম আলীর পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর প্রসিকিউশন পক্ষ হতে পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১৪ অভিযোগ:
প্রথম: মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে আল বদর বাহিনী ১৯৭১ সালের ৮ নভেম্বর ওমরুল ইসলাম চৌধুরীকে চাকতাইঘাট থেকে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে কয়েক দফায় চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লার ডালিম হোটেল, পাঁচলাইশ থানার সালমা মঞ্জিল এবং একটি চামড়ার গুদামে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

দ্বিতীয়: কাসেমের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর চাকতাই থেকে লুৎফর রহমান ফারুককে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়।

তৃতীয়: ২২ অথবা ২৩ নভেম্বর আসামির নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে তার কদমতলা বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।

চতুর্থ: ডাবলমুরিং থানায় সালাহউদ্দিন খানকে তার নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে আল বদর বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন।

পঞ্চম: ২৫ নভেম্বর আনোয়ারা থানার আবদুল জব্বারকে তার নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে মীর কাসেম আলীর সামনে হাজির করা হয়। এরপর তাকে নির্যাতন করে ছেড়ে দেয়া হয়।

ষষ্ঠ: চট্টগ্রাম শহরের একটি চায়ের দোকান থেকে হারুনুর রশিদ নামে একজনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেল এবং সালমা মঞ্জিলে নির্যাতন করা হয়।

সপ্তম: মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে সাত/আটজন যুবক ডাবলমুরিং থানা থেকে সানাউল্লাহ চৌধুরীসহ দুজনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।

অষ্টম: ২৯ নভেম্বর রাতে নুরুল কুদ্দুসসহ চারজনকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন।

নবম: ২৯ নভেম্বর সৈয়দ মো. এমরানসহ ছয় জনকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়।

দশম: কাসেমের নির্দেশে মো. যাকারিয়াসহ চারজনকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়।

এগারো: শহীদ জসিম উদ্দিনসহ ছয়জনকে অপহণের পর নির্যাতন করা হয়। এতে জসিমসহ পাঁচজন নিহত হন এবং পরে লাশ গুম করা হয়। ঈদের পর জসিমকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।

বারো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ তিনজনকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়। এতে দু’জন নিহত হন এবং তাদের লাশ গুম করা হয়।

তেরো: সুনীল কান্তিকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়।

চৌদ্দ: নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অপহরণ করে নির্যাতন।

Facebook Comments
শেয়ার করুন