পুরুষরা সবচেয়ে বেশি পারিবারিকভাবে নির্যাতনের শিকার

13
b11505

বহুল প্রচলিত ‘পুরুষ শাসিত সমাজ’ কথাটি সবারই চেনা। এই সমাজে নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন নারীরা এটাও সবার জানা। তাই বিবেচনার বাইরে ধেকে যায় পুরুষের অবস্থান। কখনো হিসাব করে দেখা হয় না পুরুষও কোনো নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কিনা। অথচ আড়ালের সত্য হল- পুরুষরা সবচেয়ে বেশি পারিবারিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন। এই নির্যাতন হতে পারে শারীরিক কিম্বা মানসিক। আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে ও কাদের দ্বারা পুরুষ প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছেন।

স্ত্রী কাছে নির্যাতন

সুখে-দুখে একে অপরের সঙ্গী হিসেবে পেতেই মানুষ বিয়ের সম্পর্কে জড়ায়। কিন্তু সে সম্পর্ক অনেক সময় উভয়ের জীবনে বিষময় হয়ে ওঠে। অনেক নারী আছেন এই সমাজে যারা তাদের স্বামীকে যথার্থ সম্মান দিতে মোটেও রাজি নয়। তারা প্রতিনিয়ত পুরুষকে নির্যাতন করে চলেছে। একজন নারী থেকে পুরুষের শারীরিক শক্তি অনেক বেশি। কিন্তু মানসিক বা আর্থিক শক্তি সব সময় নারীকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। সংসারে প্রতিদিন ঝগড়া করা, অযথা দোষারোপ করা কিম্বা অর্থের জন্য প্রতিনিয়ত হেয় প্রতিপন্ন করাও এক প্রকার মানসিক নির্যাতন। যার শিকার হয়ে থাকেন অনেক পুরুষই। এছাড়া স্বামীকে বাবা মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলা ও সন্তানদের থেকে দূরে রাখাও নির্যাতন। মানসিকভাবে নির্যাতিত হওয়ার পাশাপাশি অনেক পুরুষ শারীরিকভাবেও নির্যাতিত হচ্ছেন। স্ত্রী অন্য পুরুষ যেমন- বাবা, ভাই, বন্ধু কিংবা ভাড়া করা কাউকে দিয়েও স্বামীর উপর শারীরিক নির্যাতন চালাতে পারেন।

বাবা মায়ের কাছে নির্যাতন

আমাদের সমাজে পুরুষদের দেখা হয় অর্থ উপার্জনের যন্ত্র হিসেবে। পুরুষদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় সংসারের সব দায়িত্ব। এটিও একধরনের মানসিক নির্যাতন। এছাড়া আরও একটি নির্যাতন বাবা মায়েরা করে থাকেন তা হল বিয়ের ব্যাপারে। জোর করে শুধুমাত্র মেয়েদেরই বিয়ে দিয়ে দেয়া হয় না। ছেলেদেরও এই নির্যাতন সহ্য করতে হয়। অনেক সময় নিজের মত না থাকলেও বাবা মায়ের চাপে পরে বিয়ে করতে হয় অনেককে।

বন্ধুর কাছে নির্যাতন

পুরুষেরা ঘরে নির্যাতনের পাশাপাশি ব্ন্ধুদের কাছেও নির্যাতিত হন। পারিবারিক পর্যায়, চেহারা, উচ্চতা, চাকরির বেতন ইত্যাদি অনেক কিছু নিয়ে হাসির ছলেই অনেকে খোঁচা দিয়ে কথা বলেন। অন্য ছেলেদের সামনে হেয় প্রতিপন্ন হয়ে থাকে। অনেক ছেলেই তার বন্ধুর খুঁত নিয়ে খোঁচা দিয়ে কথা বলে মজা পান। কিন্তু এইধরনের কথা বার্তা ও আচরণও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে পড়ে।

Facebook Comments