কান ধরে উঠ-বসের অপমানে আত্মহত্যা করল স্কুল ছাত্রী

11
Photo0129

স্টাফ রিপোর্টার: শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের কদমা গ্রামে প্রেম করার অপরাধে প্রেমিক যুগলকে ২০ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে গ্রাম্য শালিসে অপমান করে কান ধরে উঠ-বস ও জুতা কামড়ের শাস্তি দেয়া হয়। অপমান সইতে না পেরে শালিস থেকে দৌড়ে গিয়ে নিজ ঘরের আড়ার সাথে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে নবম শ্রেনীর ছাত্রী মৌসুমি আক্তার (১৫)। ঘটনার পরদিন নিহতের মা নিলুফা বাদী হয়ে প্রেমিক সুজন, ইউপি সদস্য ও গ্রাম্য মাতাব্বরদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর মডেল থানায় মামলা করেছেন। নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কদমা গ্রামের প্রবাসী মোজাফ্ফরের কন্যা পোতাবাড়ী আদর্শ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী মৌসুমী আক্তারের সাথে প্রায় চার বছর ধরে গোপনে প্রেম করে আসছিল পার্শ্ববর্তী ভিটি পাড়া গ্রামের প্রবাসী আশ্রব আলীর পুত্র সজন (২২)। ১৪ ডিসেম্বর সুজনের পরামর্শে মৌসুমী গোপনে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে দু’পরিবারের মধ্যে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ১৯ ডিসেম্বর মৌসুমী বাড়ী ফিরে আসে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রেমিক সুজনের খালা মনোয়ারা বেগম ও তার মা স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুল হক, গ্রাম্য মাতাব্বর আব্দুস সাত্তার, হাজী রমিজ উদ্দিনসহ কতক ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে শনিবার সকালে সুজনের নানা ইব্রাহিম খলিলের বাড়ীর উঠানো পাতানো শালিস বৈঠক বসে। গ্রাম্য মাতাব্বররা মৌসুমি ও তার মাকে শালিসে ডেকে আনে। শালিস বৈঠকে ইউপি সদস্য শামসুল হক ও গ্রাম্য মাতাব্বরগন মৌসুমী ও তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ আপত্তিকর কথাবার্তা বলে। এক পর্যায়ে প্রেম করার অপরাধে প্রেমিক যুগলকে শালিস বৈঠকে ৫ বার কান ধরে উঠা বসা করাসহ জুতা কামড় দেয়ার শাস্তি ঘোষনা করা হয়। শাস্তি ভোগের অপমান ও ঘৃণা সইতে না পেরে শালিস থেকে দৌড়ে গিয়ে নিজ ঘরের আড়ার সাথে উড়না পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে মৌসুমী। গ্রাম্য মাতাব্বররা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পুলিশে খবর না দিয়ে দিনভর চেপে রাখার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে মৌসুমীকে গাজীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ঘটনা প্রকাশ পায়। জয়দেবপুর থানা পুলিশ জি.ডি’র ভিত্তিতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করলে গাজীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৌসুমীর ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। শালিস বৈঠকে অপমানজনক শাসি-র ঘটনায় মৌসুমী আত্মহত্যা করায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই প্রেমিক সুজন, তার মা ও গ্রাম্য মাতাব্বরগন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শামসুল হকের সাথে বারবার মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। প্রহলাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ আকন্দ শালিস বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে জানান, মেয়ের বয়স কম হওয়ায় বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। রবিবার দুপুরে নিহতের মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় প্রেমিক সুজন, ইউপি সদস্য শামসুল হক সহ গ্রাম্য মাতাব্বরদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ  মহসিনুল কাদির জানান, বাদীর অভিযোগের ভিতিত্তে মামলা রুজু হয়েছে, আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

Facebook Comments