ডিসেম্বর মাসের সেরা তিন কবি ও কবিতা

0
50
Print Friendly, PDF & Email

১ম — মহাসত্যে গীত
হুমায়ূন আকলিম

আমি ঈশ্বর হতে আসিনী
চির শ্বাসত কল্যাণের বার্তা বয়ে
প্রণয় সিন্ধু মন্থিত হয়ে উল্থিথ হয়ে
মানব রূপে আসিয়াছি।
অশ্বথ তলে, গৌতম তীর্থে, দেবীর পদতলে
নাহি অন্ন, নাহি জীবে মুক্তির সংহার
আমি সেই সব সত্য কথা বলিয়াছিলাম।
পৃথিবীর সব পুরাতান আদি আস্তানা উপড়াইয়া
ঘুম ঘুম মানবের মাঝে মহাসত্য রবি উঠাইয়া
আমি চির কল্যাণ কর ধ্রুব সংস্কারের রাঘ তুলিয়াছিলাম।
চলমান বিশ্বের পাজর ভাংগা এই সমাজে
হিটলার, ক্লাইভ, চেংঙ্গীশ খাঁর অত্যাচার রুখতে
আমি মানব মুক্তির গান গাহিয়াছিলাম।
যারা শয়তান, ধূর্তামী, ভন্ডামী আর মিথ্যায় হয় আগুয়ান
ভগবান, ভগবান করিয়া বিলাপ সহসা ভাংগে সত্যের দ্বার
আমি সেই সব ধ্বংসের মহামন্ত্রে মাতিয়াছিলাম।
অথচ যারা মহাসত্যে প্রণয়ের গীত্যে গাহিয়া
মহাভয়, মহা মিথ্যা মন্ত্র দলিয়া-চুড়িয়া
সত্যের ঝান্ডা বয়ে বেড়ায় ভয়হীন সর্বদা
পৃথিবীতে তাদের কোন রক্ষা প্রভূ নাই।
আর যারা শয়তান, মিথ্যা মাইন, ভীম রূপে করে বিরাজ
ঈশ্বরের বুকে মারে শত কোটি সাল
তারাই হল চলমান সমাজের মহা ময়ীয়ান
তাদের ভালেই পড়ে চন্দন আর সিঁদুরের সম্মান।

২য় — আসার আশায়
মহ মনিরুজ্জামান

আবার আসিস ফিরে-
জীবনে যেদিন নামবে আঁধার, ফুরাবে শত সব
হারাবে সুখ-যৌবন, যেদিন ফুরাবে সুখ কলরব।

আবার আসিস সেইদিন-
ফুল শুকাবে যখন, বসবেনা মধুকর আর
আসিস ফিরে সেইদিন, রবে এই মন-ভ্রমর।

আসার আশায় আমি-
থাকবো চির পথ চেয়ে, সেই হারানো পথে
থাকবো আশায় আসবি আবার, চলবো তোর সাথে।

আসবি আবার ফিরে-
জাগবে সোনার আলো, হবে জীবনের ভোর
হয়তো রবেনা আর মধু, সুবাসে সুবাসিত হবে ঘর ‘

আবার মিলবো দু’জন-
খেলবো প্রেমের খেলা, হাসবে সবুজ প্রাণ
ভুলে যাবো শত ঘাত, নেবো তোর গতর ঘ্রাণ।

৩য় — পুরুষ শিকলে বন্দি নারী
কাইয়ুম আকন্দ

ওহে পাপীষ্ঠা কই যাস?
মন্দিরে..
তুই নষ্টা, তুই গণিকা,
বহু পুরুষের গমন তোর দেহে,
তোর কি মন্দিরে যাওয়া চলে!
তবে তুমি এসেছিলে গত রজনীতে,
কি খুঁজতে নিরালা আমার ঘরে?

আমার দেহে উপবিষ্ট শত পুরুষের,
মন্দিরে যাওয়াতে নেই বারণ,
তবে আমার বেলায় খোঁজ কেন,
মিছে ধর্মীয় কারন?

চুপ, চুপ, চুপ কর নষ্টা,
পুরুষ! সে তো তোর অধিপতি,
তাকেই মান দেবতা, তাকেই কর ভক্তি,
তাঁর সুখের তরে তোর দেহ,
দিয়ে দে জলাঞ্জলি।

 তবে সেই নষ্ট পুরুষের কি হবে,
সেই বা কেন মন্দিরে যাবে?
চুপ কর, সে তো দূর্গা মায়ের পায়ে করে ক্রদন,
গঙ্গা স্নান করে পাপ করেছে মোচন।

হা—হা—–হা
বড়ই অদ্ভুদ পুরুষ তুমি,
অদ্ভুদ তোমার নিয়ম,
এক নারী হতে পাপ লালায়ীত করে,
অন্য নারীর দেহে করো বর্জন।

ওহে পাপীষ্টা, কি উল্টো পাল্টা বকছিস,
কেন গঙ্গা মা কে কলঙ্ক দিচ্ছিস?
ওহে ভন্ড পুরুষ! ভুল নিয়ম সৃষ্টিকারি,
ভুলে যেও না, গঙ্গা মা’ সে ও এক নারী।

চুপ নষ্টা, তোর মায়ার জালে পড়ে হাজারও মহামানব,
হারিয়েছে তাঁর ধর্ম,
তোর ছলনায় ভুলে ছেড়েছে সে,
ভগবানের কর্ম।

ওহে নাগর পুরুষ বলতে পার,
কেন শিব দেখিয়েছিল বেহুলার নৃত্য?
কেনই বা কৃষ্ণ স্বর্গ ছেড়ে,
রাধার প্রেমে হয়েছেছিল মত্ত?
দেবতাই যখন এমন, তখন মহামানব কে টেনে,
দাও কেন মিছে ভুল ত্বত্ত?

জানি আজ কোনই উত্তর নেই তোমার জানা,
শুধু নারী কে কলঙ্ক দিতে জানো,
দিনের আলোতে বেশ্যা অপবাদ দিয়ে,
রাতের আঁধারে তাকেই কাছে টানো।

Facebook Comments