ডিজিটাল চাঁদাবাজির শিকার হলে কী করবেন?

0
28
Print Friendly, PDF & Email
29dd12-13

জরুরি কাজে আপনি কম্পিউটার খুলে বসেছেন। হঠাৎ পর্দায় ভেসে উঠল একটি সতর্কবাণী, ‘আপনার সব ফাইল বিশেষ সংকেতলিপিতে (এনক্রিপটেড) আটকে ফেলা হয়েছে। ফাইল খোলার চাবি (ডিক্রিপ্ট করার সংকেতলিপি) পেতে হলে আপনাকে ৫০০ ডলার দিতে হবে—ইতি ক্রিপটোওয়াল!’ কী সর্বনাশ! কত জরুরি বিষয় আপনি কম্পিউটারে লিখে রেখেছেন। সেসব ফাইল ছাড়া তো আপনি পথে বসবেন। কিন্তু ডিজিটাল চাঁদাবাজেরা বলছে, যা করার এক সপ্তাহের মধ্যে করুন। না হলে দিতে হবে এক হাজার ডলার। পরের সপ্তাহেও যদি না দেন, তাহলে আপনার কম্পিউটারের হাজার দশেক ফাইল চিরদিনের জন্য গায়েব হয়ে যাবে। যদি কোনো দিন বিপদে পড়েই যান, তাহলে কী করবেন আপনি?
নিচের পরামর্শগুলো বিবেচনা করতে পারেন:
১. ক্রিপটোওয়াল ২.০ (CryptoWall 2.0) হলো র্যা নসমওয়্যার (মুক্তিপণ আদায়ের হাতিয়ার) নামক কম্পিউটার ভাইরাসের অপ্রতিরোধ্য একটি অংশ। এটা সাধারণত ই-মেইলের কোনো নিরীহ ধরনের অ্যাটাচমেন্ট ফাইল খুললে বা কোনো ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে আপনার হার্ডডিস্কে ঢুকে কাজ শুরু করে দেয়। সব ফাইল আটকে ফেলে। তাই ই-মেইলের কোনো অ্যাটাচমেন্ট খোলার আগে সাবধান থাকুন।
২. আমেরিকার তথ্যপ্রযুক্তিবিদেরা হাজার চেষ্টা করেও ক্রিপটোওয়ালের তালা খুলতে পারেননি। তাহলে কি আপনি চাঁদাবাজদের দাবি মেনে নেবেন? আমেরিকার ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারের পরামর্শ হলো, না, মানবেন না, আপনার ফাইল নষ্ট হলে হোক, তা–ও চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেবেন না। কথা ঠিক। কিন্তু আপনার ফাইলগুলো তো ফেরত পাচ্ছেন না। সে জন্যই হয়তো টেনেসি রাজ্যের ডিকসন কাউন্টির শেরিফ অফিস তাদের ৭২ হাজার গোপন রিপোর্টের ফাইল উদ্ধারের জন্য ক্রিপটোওয়ালের দাবি মেটাতে বাধ্য হয়েছে।
৩. আপনি চাইলেও চাঁদার দাবি মেটানো সহজ নয়। দিতে হবে বিটকয়েনে। বিটকয়েন হলো এক ধরনের অকেন্দ্রীভূত ভার্চুয়াল মুদ্রা, যা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে লেনদেন হয়। এর সুবিধা-অসুবিধা দুইই আছে। অনেক সময় অবৈধ লেনদেনে বিটকয়েন ব্যবহৃত হয়। এর বাজারদর ওঠানামা করে। আপনি যদি ৫০০ ডলার দিতেও চান, তাহলে বিটকয়েনে পরিশোধের পর হয়তো দেখা যাবে যেদিন ওই মুদ্রা ক্রিপটোওয়াল পেয়েছে, সেদিন তার বাজারদর ২৫ ডলার কমে গেছে। অর্থাৎ অবশিষ্ট কয়েক ডলার পরিশোধের জন্য আপনাকে বিটকয়েন-এটিএম খুঁজতে হবে, যা বেশ কঠিন।
৪. পুলিশের সাহায্য চেয়ে খুব একটা লাভ নেই। কারণ ওরা দেখেছে বেশির ভাগ হ্যাকার কাজ করছে বাইরের এমন কিছু দেশ থেকে, যেখানে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্য পাওয়া কঠিন। এর আগে ছিল ক্রিপটোলকার, যা ২০১৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই চাঁদাবাজেরা ১০০ ডলার থেকে ৮ লাখ ডলার পর্যন্ত দাবি করত। বিশ্বের ৫ লাখেরও বেশি কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছিল। ২০১৩ সালে মাত্র ১০০ দিনে ক্রিপটোলকার হ্যাকাররা প্রায় তিন কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। এদের সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন।
৫. সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দু–চার মাস পর পর আপনার পিসির ফাইলগুলোর ব্যাকআপ রেখে দিন নিরাপদ কোনো হার্ডডিস্কে। অথবা সংরক্ষণ করুন কোনো ক্লাউড ব্যাকআপ সার্ভিসে।
৬. এসব বিষয়ে আরও মজার খবর জানতে পড়ুন এলিনা সিমোনের লেখা ‘হাউ মাই মম গট হ্যাকড’ নিবন্ধটি (দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ৪ জানুয়ারি, ২০১৫)।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

Facebook Comments