গত সপ্তাহের সেরা কবিতা

0
28
Print Friendly, PDF & Email

দাহন, আনামিয়া

জ্বলছে!…
আরো জ্বলুক ,
আগুনই তো দিতে পারে
অন্ধকারে আলোক।

এই সুন্দর সংসারে-
অন্তরে প্রান্তরে
যত শোক তাপ
হয়তো অপূর্ণ জীবন
কাঁটাহীন গোলাপ।

জীবন জগতের মূল্য
সুখ, ভোগ, বিলাসিতা
আছে বলে ক্লান্তি
প্রেমের মধুরতা
চিনে নিতে পারি।

ইতিহাস সাক্ষী-
যত মহা মানব, কবি, সূফি, সন্ন্যাসী
জীবনের সাথে হয়নি পরিচিত
যত চিনেছে দুঃখ।

জীবনের সবচেয়ে বড় সাধ
পরম আত্ম তৃপ্তি
নিগূঢ় তত্ত্বজ্ঞান
লাভিয়েছে অগ্নিচুমী ।।
অভিশাপ নয় আর্শিবাদ
হাবিবুল্লাহ মোড়ল

সেই কবে হয়েছিলো প্রথম দেখা ঠিক মনে নেই
কোনো এক ক্ষণে মনে মনে হয়েছিলো প্রেম লেনা দেনা
কোনো এক বর্ষা বিকেলে মনের
দরজা খুলে আমায় যেনো তুমি ডেকেছিলে,
জোঁৎস্না রাতে
তুমি আমি এক সাথে
তুমি বার বার আমার বুকে মাথা রেখেছিলে……
নির্ঘুম রাতে আমায় ঘুম পাড়াতে
আমার দুচোখে তোমার আসা যাওয়া
আঁধার ঘরে দিয়েছো আলোতে বাড়ে
এ যেনো অমানিশায় পূর্ণিমার চাঁদ খুঁজে পাওয়া……
আমি হয়েছি পৃথিবীর সবছে সুখি
তবে ক্ষণিকের জন্য
আমি ভুলে গেছি
আমি ভুলে গিয়েছিলাম আকাশের
কালো মেঘে পূর্ণিমার চাঁদটি আবার
আঁধারে ঢেকে যাবে
তাই মনের দরজা খুলে তোমায়
সেখানে দিয়েছিলাম ঠাঁই,
আকাশে ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে
ভাবি নি দমকা হাওয়া এসে সুঁতো ছিড়ে দেবে
মিছে মিছে সারাটা দিন, চৈত্রের
খড়া রোদে পুড়ে হতে হবে ছাই…….
ভাবতেই চোখে আসে জল
তুমি কি করে জানো এত ছল
কোন সুখের আশায় তুমি আমায় ভুলে যেতে চাঁও,
সুখ যদি পাও তুমি
বাঁধা দেবো না আমি
ভুলে যেথে চাঁও যদি যাও ভুলে যাও………
যদি কখনো কোনোদিন শুনতে পাও আমি আর
পৃথিবীতে নেই
আমায় দেখতে তুমি এসো না
চোখের জলে বৃষ্টি ঝড়িয়ে কি আমায়
ফেরানো যাবে
আমায় তুমি আর মিছে ভালোবেসনা,
অভিশাপ নয় আর্শিবাদ
জনম জনম তুমি সুখে থাকো
যদিও না তুমি
আমায় মনে রাখো……..

পথ শিশু, হুমায়ুন আবিদ

বয়স তার কত হবে ? ছয় বা সাত
ময়লা মাখা গায়ে তার অনাদরের ছাঁপ।
পরনে তার ছেঁড়া জামা মাথায় খুশকী চুল
মলিন চোখে তাকিয়ে থাকে হয়ে নিঃশ্চুপ।

চুপি চুপি খুঁজে চলে আপনজনের ছায়া
রোদ, বৃষ্টি, শীত, গরমে একই অবস্থা।

পোশাকধারী সাহেব দেখলেই দৌঁড়ে আসে কাছে
কোমল হাতটি দেয় বাড়িয়ে কিছু পাবার আশে।
স্যার, ক্ষিদা লাগছে ভাত খাব দেননা কয়ডা টেহা?
আল্লায় আফনের ভালা করবো এই মিসকিনের দোয়া।

কেউবা দেয় দু-চার টাকা কেউবা বলে বাগ্
এমনি করে জীবন কাটে চাওয়া পাওয়ার নাই হিসাব।

যে বয়সে স্কুলেতে বই পড়ার কথা
মায়ের আদর ভালবাসায় ধন্যি ছেলে হওয়া,
বাবার কাছে শত রকম বায়না ধরার পালা
সেই বয়সে তার হাতে কেন ভিক্ষার থালা?

প্রশ্নটা অতি সহজ, উত্তর সবার জানা
তবুও বলবেনা কেউ পথ শিশু বলে কথা।

কারো ক্ষনিক সুখের ফসল ফুঁটলো যখন ভবে
অন্ধকারে দিল ফেলে দিল পথ শিশু নাম দিয়ে।
ভদ্র সমাজ করলো গোসল হয়ে গেল পাক?
শিশুটি মরলোনা এটাই তার পাপ।

আজও ভুলিনি তোমায়, মহ মনিরুজ্জামান

আজও ভুলিনি তোমায়, ভুলিনি নেশার চাহনি
ভুলিনি দেহ-সুবাস, সুখের পরশ ভুলিনি
তোমার সুখের কাঁপুনি, চোখের সুখ জল
আজও ভুলিনি আমি, মনে আছে অবিকল

মাঝরাতের জিরো বাল্ব -আজও আশায় চায়
সেও ভুলেনি সেই পল, ভুলেনি তোমায়
ফ্যানের ব্লেড ত্রয়-আসার আশায় ঘুরে
তোমার কামনায়, বিফল ঘুরে ঘুরে মরে

সকালের এলো চাদর-আজও যেন খুঁজে
বিফল, পায়না ছোঁয়া-সাজেনা সে ভাজে
আয়না চোখ মেলে দাঁড়িয়ে আছে আশায়
ভুলেনি স্নান ভেজা রূপ, ভুলেনি তোমায়

সেই সুখের শত পল, সুখের দিবস-রজনী
আজও ভুলিনি আমি, তারাও তোমায় ভুলেনি

আমার কথা, মহ মনিরুজ্জামান

কত বার ভাবি-এবার লিখি প্রেমের প্রেম কথা
মুছে ফেলি যত সব দু:খ হাহাকার, কান্না আর ব্যথা
কলমটা হাতে নিই, তাকাই সাদা কাগজের পানে
দেখি, অপুষ্টি ভোগা -শিশুটি বসে কাঁদছে ওখানে
মা তার তুলছে কলমি শাক, শাড়ি ভেদে দেখি শায়া
শুকনো মুখখান লাবণ্য ছাড়া, শরীরে নেমেছে কালের ছায়া
বাপ ফেলে গেছে, জুটিয়েছে শরীরের নতুন আহার
এমনি সব ছবি ভাসে, কি হালে লিখি প্রেম-কথা আর

ভাবি মাঝে সাঝে-ফেলে দিই উপড়ে চোখ দু’টি
দেখবো না আর ব্যাথা হাহাকার, মিলবে হয়তো ছুটি
মেলাই চোখের পাতা, অবুঝ বোকা মন শুরু করে জ্বালাতন
বলে-লিখে যা তুই, প্রেম নেয়-অপ্রেমের সময় এখন
মন কে বলি শত বার, অপ্রেম নয়-যত দোষ তোর
দেখে আয় যা কবিদের ঘর প্রেম ঝরঝর, সাঁঝ রাত কিবা ভোর

হাতে কলম তুলি, লিখবো প্রেম কথা, হৃদ-কথা বাদ
হায়রে! কপাল পোড়া, শুনি অদুরে ভাসে অভাগীর হাহাকার নাদ
মরদে গিলেছে মৃত্যু-সুধা, বউ আনে দু-আনা নগরে বেচে কায়া
ভেঙেছে নেশা, চায় আরো ধারা-মাগি পিটে মরদ বেহায়া
কি করি আর-দোষ আছে যার ললাটের রেখায়
কেমনে হয় সে প্রেম-কবি. কেমনে প্রেম লেখা হয়

ভাবি বসে একা-কোন গুণে কবি-কুল পারে প্রেম লেখা
হয় না আমার, হায়রে আমার মন, হায়রে ইন্দ্রিয়, হায়রে কপালের রেখা

কবিদের মনে প্রেম-সুধা ঢালে সাকী কুল দলে দলে
কানে ভাসে সুর-প্রেমময় মধুর, সাকী সাজে ঋতু রাজ-ফুলে
ব্যথা বেদনা, হাহাকার দু:খ যত জোটে আমার আঙিনায়
লিখতে বসি প্রেমের কথা, সমাজের কথা আসে কলমের ডগায়

ভালোবাসার চিহ্ন, সার্জেন্ট মোঃ নাজমুল কবির (অবঃ)

একটা রেখা দিয়ে যদি বলো-
ভালোবাসার কবিতা লিখতে
আঁকবো সমান্তরাল রেখা।
একটা যতি চিহ্ন দিয়ে যদি বলো
ভালোবাসা কেমন হবে
এঁকে দেবো প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
যদি বলো ভালোবাসার রূপ
বলবো শুধু অপরূপ
এঁকে দেবো কাশ ফুল।
ভালোবাসার রঙ কেমন
এঁকে দেবো নীলাকাশ
যেথা থাকবে ভৈরবী বাতাস।
ভালোবাসার মিলন কোথায়
যদি বলো লিখে দিবো
অজান্তে একটা দাড়ি।
যদি বলো কি ভাবে ধরে রাখবে
ভালোবাসার মানুষটিকে
বলবো চারপাশে এঁকো চতুর্ভূজ
হারাবে না কখনো হবে না নিখোঁজ।
ভালোবাসার শেষ কোথায়
জবাবে লিখে দেবো বিন্দু
বিন্দুর মাঝেই লুকিয়ে সিন্ধুর গভীরতা।

Facebook Comments