ফাঁদে’ পা দিবে না বিএনপি

0
26
Print Friendly, PDF & Email
bnp

নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে দেড়মাস ধরে টানা আন্দোলনে বিএনপি। ঠিক এমন সময়ে আবারো আলোচনায় আসলো ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচনের খবর।

এর আগে বেশ কয়েকবার ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হলেও নানা কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তবে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি তিনি একভাগে নিজের পছন্দের প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছেন।

এদিকে সরকারের এই উদ্যোগে আওয়ামী শিবিরে কিছুটা নড়াচড়া শুরু হলেও বিএনপিতে এ নিয়ে নেই কোনো আলোচনা। উল্টো দলটির নেতারা বলছেন, আন্দোলন থেকে মনোযোগ সরাতে সরকার নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে। কিন্তু তারা এই ‘ফাঁদে’ পা দিবেন না। আন্দোলনে বিজয়ী হয়ে সবার অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন আদায় করাই এখন তাদের লক্ষ্য।

গত ৮ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিসিসি নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এমন নির্দেশের পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে কার্যত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সবশেষ ১৫ ফেব্রুয়ারি আবারো ডিসিসি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ডিসিসি নির্বাচন দিন, আর কতো আটকিয়ে রাখবেন?”

একই সঙ্গে তিনি উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রার্থী হিসেবে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আনিসুল হকের নাম ঘোষণাও করেন।

ওই বৈঠক সূত্রে জানা যায়, একজন মন্ত্রী এসময় প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বললে তিনি (শেখ হাসিনা) বলেন, “যে জয়ী হয় হোক।”

এদিকে সরকারের এই উদ্যোগের বিষয়ে সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সীমানা জটিলতা নিয়ে গেজেট হাতে পাওয়ার পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে আমরা কথা বলব। আমাদের প্রস্তুতি আছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও ঢাকা সিটিতে নির্বাচন করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর সরকার ঢাকা সিটিকে দুই ভাগে ভাগ করে। এরপর সীমানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে ইসি এতদিন নির্বাচন করেনি। ডিসিসির সবশেষ নির্বাচিত মেয়র ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের গত আমলের শেষের দিকে ডিসিসি নির্বাচন হবে এমন খবরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। কেউ কেউ মেয়র পদের লড়তে নানামুখি প্রচারণাও চালিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে সময় আর নির্বাচন হয়নি।

সিটি নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকলেও তখন বিএনপি নেতাদের মধ্যে মেয়র পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আসম হান্নান শাহ, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আওয়াল মিন্টুর নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে দক্ষিণে সাবেক মেয়র মো. হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন, হাজী মো. সেলিম, মহানগর সভাপতি এমএ আজীজসহ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছিল।

আর উত্তরে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, একেএম রহমতউল্লাহ, জাসদের শিরিন আখতার মেয়র পদে লড়ার কথা জানিয়েছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর আওয়ামী লীগের এসব নেতাদের কেউ কেউ নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ কেউ মেয়র হলে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য তোরজোড় শুরু করেছেন।

তবে বিএনপির দিকের চিত্র পুরো উল্টো জানা গেছে, ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে দলটিতে আপাতত কোনো চিন্তাভাবনা নেই।একইসঙ্গে দলটির নেতারা বলছেন, আন্দোলন থেকে দৃষ্টি ফেরাতে সরকার হঠাৎ করে ডিসিসি নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটা সরকারের কৌশল। তারা এই ‘ফাঁদে’ পা দেবেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “এই মুহূর্তে একটি সংলাপ-সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার সেদিকে নজর না দিয়ে হঠাৎ ডিসিসি নির্বাচন দেয়ার কথা বলছে। এটা ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ।”

বিএনপি সরকারের সেই ফাঁদে পা দেবে না বলেও জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

এদিকে ডিসিসি নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও অবগত আছেন বলে জানা গেছে। এমনটা জানিয়ে এ বিষয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) এ বিষয়ে অবগত আছেন। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।”

তিনি আরো বলেন, “ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে। এখন জাতীয় নির্বাচন দিয়ে আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

আর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “আমাদের আন্দোলন থেকে এই মুহূর্তে অন্যদিকে নজর দেয়ার সময়-সুযোগ কোনোটাই নেই। আন্দোলন ছাড়া আমরা কিছুই ভাবছি না। শিগগিরই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হবে।”

Facebook Comments