হঠাৎ নিরব নাগরিক সমাজ

0
10
Print Friendly, PDF & Email
nagorik-somaj-4

বেশ কয়েকদিন ধরেই নিরব আছেন দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের দৌড়ঝাঁপও খানিকটা স্তমিত হয়ে পড়েছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গ্রেপ্তারের আগে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা চলমান সংকট নিয়ে বেশ তৎপর ছিলেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে সমস্যা সমাধানে চিঠিও লিখেছিলেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মাহমুদুর রহমান মান্না গ্রেপ্তার হওয়ার পর অনেকটা ‘চুপ’ হয়ে গেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাহমুদুর রহমান মান্না গ্রেপ্তার হওয়ার পর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের কাছে হয়তো কোনো বার্তা পৌঁছেছে, যার কারণে তারা সরব হচ্ছেন না।
জানতে চাইলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমরা চুপ নই। আমরা আমাদের কথা বলেই যাবো। আমরা বলা ছাড়া তো আর কিছু করতে পারি না।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মান্নার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই। আমাদের কমিটিতেও তিনি নেই। সুতরাং মান্না গ্রেপ্তারে আমাদের ভয়ের কিছু নেই। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব।’
ড. বদিউল আলম বলেন, ‘সমস্যা আমাদের। সমাধান আমাদেরকেই করতে হবে। রাজনীতিবিদদেরই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। জোর করে সমাধান চাপিয়ে দেয়া যায় না। কূটনীতিকরা তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তারা কোনো মধ্যস্থতা করবে না। তারা সহযোগিতা করবে মাত্র।’
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সহিংসতা বন্ধ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের উদ্যোগ নিতে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’-এর পক্ষ থেকে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদাকে।
কমিটির সদস্যরা হলেন- এম হাফিজউদ্দিন খান, মোহাম্মদ শাহজাহান, জামিলুর রেজা চৌধুরী, আকবর আলি খান, সি এম শফি সামী, রাশেদা কে চৌধুরী, রোকেয়া আফজাল রহমান, সৈয়দ আবুল মকসুদ, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, শাহদীন মালিক, আহসান এইচ মনসুর ও বদিউল আলম মজুমদার।
কমিটির নাম ঘোষণার পর এ টি এম শামসুল হুদা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, সন্ত্রাস বন্ধ ও সংলাপ দুটি প্রক্রিয়াই সমান্তরালভাবে আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘যেরকমভাবে আমরা বলছি যে, সন্ত্রাস বন্ধ হতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গেই আপনার উদ্যোগ নিতে হবে যে কী করে এই সমস্যার সমাধান করা যায়। নিরপরাধ লোক নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে এটাতো বন্ধ করতে হবে।’
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি চলমান সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে চিঠি দেয় নাগরিক সমাজ। এরপর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মাহমুদুর রহমান মান্না গ্রেপ্তার হওয়ার পরই নাগরিক সমাজের কার্যক্রমে ভাটা পড়তে দেখা যায়।
জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিক সমাজ রাষ্ট্রের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ধারাটি আমাদের দেশে তৈরি হয়নি। একটি দেশে সক্রিয় নাগরিক সমাজ না থাকলে সঠিক গণতান্ত্রিক চর্চা হয় না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে নাগরিক সমাজ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছে- এটা তো সত্য কথা। কারণ দেশের পরিস্থিতি তো সুখকর নয়। বিদেশিদের ডেকে এনে সমস্যা সমাধান করানোর মতো অবস্থা চলছে। নাগরিক সমাজ উদ্যোগ নিলেও তাতে সায় দিচ্ছে না রাজনীতিবিদরা। এটাই উদ্বেগের মূল কারণ।’
তিনি বলেন, ‘কূটনীতিকদের তৎপরতা জাতীয় রাজনীতির জন্য বিব্রতকর। আন্তর্জাতিক ভূমিকাটা মনে হচ্ছে দাওয়াত করে আনা হচ্ছে। এটা তো কাম্য নয়। এটা বিব্রতকর। আমরা তো কোনো আলোর দিশা দেখতে পাচ্ছি না। তবুও আশা রাখছি, সমস্যা সমাধান হবে।’

Facebook Comments