ধরাছুঁয়ার বাইরে অফিসের স্টাফ ও দলিল লিখক

0
24
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার: সোমবার দুপুরে শ্রীপুর সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসের কেলেঙ্কারি ঘটনায় জড়িত অফিসের নকল নবিশ ও সাব-রেজিষ্ট্রারের সহকারী আঃ আজিজ ও অফিসের দলিল লিখক তাইজুল ইসলাম ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়েগেছেন টাকার প্রভাবে। জানা গেছে, একটি প্রতারক চক্র ব্যংক হতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে শ্রীপুর অফিসের নকল নবিশ আঃ আজিজের সহযোগীতায় দলিল লিখক তাইজুল ইসলামের মাধ্যমে গাজীপুর মৌজার প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৫১ বিঘা জমি আম-মোক্তার দলিল করার পরিকল্পনা করে।

সেই পরিকল্পনা মোতাবেক ০৯ মার্চ সোমবার দুপুরে জমির প্রকৃত মালিকদের অগোচরে উল্লেখিত সম্পত্তির যাবতীয় কাজগপত্রসহ ৫টি ভূয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী করে একটি ব্যাপক ক্ষমতাযুক্ত আম-মোক্তার নামা দলিল করার জন্য সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের নকল নবিশ আ: আজিজের মাধ্যমে জমা দেয়। ৫১ বিঘা সম্পত্তি রেজিষ্ট্রী করার পূর্বে শ্রীপুর অফিসের সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখিত কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র উপজেলা নির্বাচন অফিসে পাঠানো হয়। আর সেইসব তথ্য ভুয়া প্রমাণিত হলে তাৎক্ষনিক ভাবে সাব রেজিষ্ট্রার মো: জাহাঙ্গীর আলম তাদেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটককৃতরা হলো- মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার শিমুলিয়া গ্রামের বোরহান উদ্দিনের পুত্র আনোয়ারুল হক একই জেলার কাজির পাগলা গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের পুত্র হাবিবুর রহমান, গাজীপুর জেলার সদর থানার কুসুন গ্রামের মুমিন আলীর পুত্র আজিম হোসেন এবং শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের আকবর আলীর পুত্র হেলাল উদ্দিন।

আটককৃত হেলাল জানায়, ব্যবসায়ী আনোয়ারুল হকের সাথে যোগসাজসে সে টাকার জন্য নয়াপাড়া গ্রামের মিনহাজ ও বাবুলের সহযোগিতায় এ কাজ করেছে। ব্যবসায়ী আনোয়ারুল হক এ দলিল তৈরী করে ব্যাংক হতে কয়েক’শ কোটি টাকা ঋণ গ্রহন করে আত্নসাৎ করতো বলে সে জানায়। তাছাড়া এ কাজে সহযোগিতার জন্য দলিল লিখক তাজুল ইসলাম এক লাখ টাকা ও নকল নবিশ আ: আজিজকে পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করেছে তারা।

সাব রেজিষ্ট্রার মো: জাহাঙ্গীর আলম জানায়, ৫১ বিঘা জমির ব্যাপক আম মোক্তার নামা দলিল দেখে আমার সন্দেহ হলে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই বাছাইয়ের নির্দেশ দেই। এতেই বেড়িয়ে আসে জাল-জালিয়াতির ঘটনা। যারা এ কাজে সম্পৃক্ত তাদেরকে আটক করে তাৎক্ষনিক ভাবে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানায়, এ ঘটনায় অফিসের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে দলিল লিখক তাজুল ইসলাম ও নকল নবিশ আ: আজিজ এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মহসিনুল কাদির জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারনা মামলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের অন্যান্য দলিল লিখক ও স্টাফরা জানান, অত্র অফিসের নিয়ম অনুযায়ী দলিল লিখক ব্যতিত অফিসের কোন স্টাফ দলিল করিতে পারিবে না। তারপরও গোপনে এসমস্ত কর্মকান্ড করে আসছে তারা। এ ঘটনায় অফিসের জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উদ্বেগ জানান তারা। তারা আরো বলেন, বিভিন্ন মহলে টাকা দিয়ে তারা এখন ধরাছুঁয়ার বাইরে আছেন। আ: আজিজ স্যারের সহযোগী হওয়ায় দলিল দাখিলের সময় লিখিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন কারনে দলিল না করার ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেন। এর আগে অনিয়মের অভিযোগে সাব-রেজিষ্ট্রারের সহকারী ফারুক উদ্দিনকে বিতারিত করা হয়েছে। বর্তমানে তার স্থানেই আলোচিত আঃ আজিজ আছেন।

Facebook Comments
শেয়ার করুন