আসছে ঢাকা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও

0
22
Print Friendly, PDF & Email
20 dol

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের টানা অবরোধ ও হরতালের মধ্যে এবার যোগ হতে যাচ্ছে ঢাকা ঘেরাও ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে অবরোধ-হরতালের ফাঁকে ঢাকায় পরপর দুটি সমাবেশের মাধ্যমে শোডাউন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সমাবেশের অনুমতি না মিললে প্রথমে ঢাকা ঘেরাও ও পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করা হবে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপির নির্বাচনের দাবি মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় অবরোধ-হরতালের পাশাপাশি ঢাকা ঘেরাও ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ার ব্যাপারে দলের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে টানা দুই মাস আন্দোলন করে আসছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। সংকট নিরসনে চলছে দেশি-বিদেশি নানা উদ্যোগ। জাতিসংঘও সংকট নিরসনে তাগাদা দিয়ে আসছে। এসব নানামুখী চাপের পরও সরকার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যত কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সরকারের এই অনমনীয়তা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটকে ভাবিয়ে তুলেছে। তবে ভাবনা থাকলেও চলমান আন্দোলনে কোনো ফল ছাড়া ঘরে না ফেরার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে তারা। এমন অবস্থায় আন্দোলনে নতুনত্ব এনে সফলতা পেতে চায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। তাই ঢাকাকে টার্গেট করেই আন্দোলনের নতুন ছক সাজানো হচ্ছে।

২০-দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানান, দুই মাসের কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত সন্তুষ্ট তারা। তাদের মতে, টানা আন্দোলনের পরেও ঢাকা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে বিরোধী জোট আন্দোলন বন্ধ করবে এমনই ভেবেছিল সরকার। কিন্তু তা হয়নি। সরকারের জুলুম-নির্যাতন জয় করে আন্দোলন চলছে। মার্চ মাসজুড়েই হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি চালানোর এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নেতা বলেন, কোনো অবস্থাতেই আন্দোলন বন্ধ হবে না। রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিতে আগামী সপ্তাহে আন্দোলনে নতুনত্ব আনার কথা ভাবা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকেই ঢাকায় বিএনপির শোডাউনের পরিকল্পনা থাকলেও গত ৪ মার্চ খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা এবং গ্রেপ্তারের একটি সম্ভাবনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তার নিয়ে চিন্তা করছে না বিরোধী জোট। এখন একটাই চিন্তা ঢাকায় আন্দোলন সফল করা। এর অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে অবরোধের মধ্যেই ঢাকায় একটি সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চাওয়া হবে। সমাবেশ করার জন্য শুক্র ও শনিবারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সেদিন হরতালের কর্মসূচি দেয়া হবে না। সমাবেশের অনুমতি দিলে প্রথমে খালেদা জিয়াকে ছাড়া শুধু সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে সমাবেশ করে ঢাকায় শোডাউন করবে ২০ দল। ওই সমাবেশের এক সপ্তাহ ব্যবধানে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আরেকটি সমাবেশ করা হবে। তাতে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় শোডাউন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে.জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘টানা দুই মাস যেভাবে দেশ চলছে তা খুবই দুঃখজনক। টানা আন্দোলনের পরেও সরকার তাদের দাবির প্রতি কোনো কর্ণপাত করছে না। অন্যদিকে সরকার বারবার সবকিছু স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। গণতান্ত্রিক এই আন্দোলন সফল না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা দেশনেত্রী জানিয়েছেন।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করার হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমন হবে, ভেবেছিল সরকার। তা হয়নি। আর খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলনের প্রভাব পড়বে, এমনটি ভাবার কারণ নেই। তখন আন্দোলন আরো জোরদার ও বেগবান হবে। আন্দোলন তার আপন গতিতেই চলবে।’

বিএনপির আন্দোলন শক্তিশালি করতে ও সরকরকে ক্ষমতা থেকে সরাতে জামায়াতের পক্ষ থেকেও নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার ও ক্রসফায়ার আতঙ্কে দলটি কোনঠাসা থাকলেও আন্দোলনে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয় জামায়াত। এবার তদের প্রশিক্ষিত কর্মীদেরকে মঠে নামানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

Facebook Comments