আন্দোলনে নতুন চমক নিয়ে আসছে বিএনপি

0
21
Print Friendly, PDF & Email
20 dol

বিএনপি আন্দোলনে আবারও চমক দেখাতে চায়। এই জন্য আন্দোলনের নতুন কৌশল বের করছে। ইতোমধ্যে ৫ থেকে ৫টি কৌশল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিবেচনা করছেন। এরমধ্যে যে কোন একটি সময় ও অবস্থা বিবেচনা করে ঘোষণা করার চিন্তা ভাবনা করছেন। তারা ৫টি স্তরের আন্দোলনের মধ্যে একটি কেবল ঘোষণা করেছেন। এখনও বাকি আছে ৪টি স্তর। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সূত্রে মিলেছে এই তথ্য।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির আগেও বিএনপিকে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। বলেছেন বিএনপির শক্তি শেষ। তারা দল গোছাতে পারেনি। কোন আন্দোলন করতে পারবে না। বিএনপি ২০০৭ সাল থেকে ক্ষমতার বাইরে যাওয়ার পর দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে হতাশা এসেছে। ২০১৩ সালের আন্দোলনে কাঙ্খিত সাফল্য না পাওয়ায় সরকার মনে করে বিএনপির পক্ষে আর আন্দোলন করা সম্ভব নয়। অতি আত্মবিশ্বাস থেকে ৯৫ ভাগ জনগণের ভোট ছাড়া সরকার একটি নির্বাচনও করে ফেলে। এই অবস্থায় সরকার বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করায় তাদের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যায়। ফলে তারা আর বিএনপিকে গুরুত্ব দিতে চায়নি অবহেলা করেছে। বিএনপি ৫ জানুয়ারি থেকে টানা আন্দোলনে রয়েছে। এই অবস্থায় সরকার মুখে যত কথাই বলুক না কেন তাদের মধ্যে আন্দোলনের আতঙ্কতো রয়েছেই। আমরাতো আন্দোলন থেকে সরে যাচ্ছি না।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি আসছে। এই জন্য একটু সময় নেওয়া হচ্ছে। নতুন কর্মসূচি দেওয়ার আগে সরকার যাতে পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে সমঝোতার ব্যাপারে আগ্রহী হয় সেই জন্য। নাহলে আবার দেখা যাবে নতুন কর্মসূচি দিলে তা কঠোর হবে। ওই সময়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই কারণে খালেদা জিয়াও নমনীয়ভাবেই সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার যদি আগ্রহী না হয় তাহলে নতুন করে যখন কঠোর আন্দোলন শুরু হবে তখন অনেকেই বিএনপির শক্তিতে চমকে যাবেন।

সূত্র জানায়, তারেক রহমান লন্ডনে বসেই সেই ধরনের আন্দোলনের রূপ রেখা নিয়ে দলের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করছেন। আন্দোলনে নামার জন্য যখন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল তখনই কোন পর্যায়ে আন্দোলন কোন দিকে যেতে পারে, সরকার কতটা আন্দোলন দমন করতে পারে সেই সব বিষয় বিবেচনা করেই সব ঠিক করা হয়েছে। তারপরও বলা যায় বাস্তবতা বিবেচনা করে ও সময় বিবেচনা করে কর্মসূচি দিবেন। সেই ক্ষেত্রে কিছুটা রদবদলও আনা হতে পারে কৌশলে।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির একজন নেতা বলেন, আমাদের আন্দোলনের বেশ কয়েকটি স্তর রয়েছে। এখন চলছে প্রাথমিক স্তর। এতে ৭০ দিনের বেশি গত হয়েছে। এরপর শুরু হবে দ্বিতীয় স্তর। সেটা সফল না হলে তৃতীয় স্তর। মোট পাঁচটি স্তরে আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। আর এই জন্য পাঁচ স্তরের নেতাদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের মতো করে আন্দোলন সফল করবেন। সময় সময় তাদেরকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্দেশ দিবেন। কিন্তু কোন কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট নেতারা ছাড়াও অন্য কেউ জানবেন না। যখন ঘোষণা করা হবে তখন জনগণ ও অন্যান্য নেতাদের জানানো হবে। তিনি বলেন, বিএনপিকে নিয়ে যারা হতাশা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন সেটা ভুল। আর সরকারও যে আন্দোলন দমনের আতœতৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন সেটাও ঠিক হবে না। সরকারের জন্য আরো কঠিন সময় আসছে। আমরা ভাবছি সরকার প্রথম স্তরেই জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে। আর বাকি চার স্তরে কি দেখাবে। সেই সব বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, আন্দোলনের ৫টি স্তরের কর্মসূচি হয়তো ঘোষণা করতে হবে না। এর আগেই সাফল্য আসতে পারে।

এদিকে সরকারের একজন নীতি নির্ধারক মন্ত্রী বলেন, বিএনপি পাঁচস্তর কেন দশ স্তরেও যদি আন্দোলন পরিকল্পনা করেন, নেতাদের দায়িত্ব দেন এবং তা একের পর এক ঘোষণা করতে থাকেন তবুও তারা সফল হতে পারবেন না। আমরা তাদের অবস্থান, কর্মসূচি সব কিছু বিবেচনা করেই আন্দোলন প্রতিহত করবো। সেই সঙ্গে এটাও করতে চাই তা হলো ২০১৯ এর একদিন আগেও নির্বাচন হবে না। তারা আন্দোলন করে কত খানি যেতে পারেন সেটা দেখেই আমরা জনগণের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও করবে।
উৎসঃ আমাদের সময়

Facebook Comments