শ্রীপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণ

11

স্টাফ রিপোর্টার: শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের লাকচতল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রী (১২) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় সোনাব গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীর বড় ভাই রিপন বাদি হয়ে একই গ্রামের চার যুবককে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ধর্ষিতার বড় ভাই বাদি রিপন জানান, অসুস্থ থাকায় তার মা-বাবা সম্প্রতি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ছাত্রী ও তার ছয় বছরের ছোট ভাইকে সোনাব এলাকার বাড়িতে রেখে বড় ভাই রিপন বাবা-মাকে হাসপাতালে দেখতে যান। বাবা-মার অসুস্থতা বেড়ে গেলে ভাই ওই দিন আর ফিরতে পারেননি। পরে বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে তার ছোট ভাইকে নিয়ে ওই ছাত্রী তাদের ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে।

রাত ১১টার দিকে ঘরের কাঠের দরজার খিল ভেঙ্গে একই গ্রামের আবুল হোসেনের লম্পট পুত্র মেহেদী হাসান (১৮), সেন্দর আলীর পুত্র ভিলেন মিয়া (২০), ইন্তাজ আলীর পুত্র সুমন (২৫) ও সোহরাব হোসেনের পুত্র বাবু মিয়া (১৯) ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ওই ছাত্রীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে তার ছোট ভাইকে ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজার শেকল আটকিয়ে দেয়। পরে তাকে পাশের বনের ভেতরে নিয়ে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করে ভিলেন মিয়া তাদের বাড়িতে নিয়ে নিজ ঘরের ভেতরে তাকে আবারো ধর্ষণ করে। পরদিন শুক্রবার সকালে ভিলেনের মা ওই ছাত্রীকে ভিলেনের ঘরে দেখতে পেয়ে কারণ জানতে চাইলে ভিলেন তার মাকে জানায় সে ওই মেয়েকে বিয়ে করবে। কিন্তু এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী ভিলেনের মাকে ঘটনাটি খুলে বললে ছাত্রীকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ইতোমধ্যে ছাত্রীর বড় ভাই রিপন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে ঘরের শিকল খুলে তার ছোট ভাইকে উদ্ধার করে এবং বোনকে খুঁজতে থাকেন। পরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই ছাত্রী বাড়ি ফিরে এসে ভাইয়ের কাছে সকল ঘটনা খুলে বলেন। পরে তার বাবা-মার কাছে পরামর্শ নিয়ে শুক্রবার রাতে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল-আমিন অভিযোগ দায়েরর সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।

Facebook Comments