রিস্ক নিতে চায়নি আওয়ামী লীগ!

15
city-election-awami-28

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো রিস্ক নিতে চায়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অতীতে উপজেলা এবং সিটি নির্বাচনের যে ফলাফল, এবারের নির্বাচনে তার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায়নি তারা। তাই ভোট শুরুর পর ভোটার উপস্থিতি দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ভোট কেন্দ্র।

জনমত জরিপ আর গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে একমাত্র আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের অবস্থানই অনেকটা সংহত বলা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন এবং চট্টগ্রামে আ.জ.ম. নাছির উদ্দিনের অবস্থা ছিল নড়বড়ে। আর সরকার এই মুহূর্তে অতীতের উপজেলা আর সিটি নির্বাচনের মতো কোনো সুযোগ দিতে চায়নি বিএনপিকে। কারণ এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আর তাই মঙ্গলবার সকালে ঢাকা ও চট্টগ্রামে নারী ভোটারসহ ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি আওয়ামী লীগকে শঙ্কিত করে। ভোটারদের হাতে তারা সব কিছু ছেড়ে দিতে চাননি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা জাতীয় নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচন ভোটারদের হাতে ছেড়ে দেয়ায় বিএনপি–জামায়াত এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ধাপে ধাপে নির্বাচন হওয়ায় পরে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ ছিল আওয়ামী লীগের। এর আগে এই সরকারের গত মেয়াদে চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও বরিশালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র খুলনার মেয়র পদ পায়। আর নতুন গঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ক্ষমতায় ক্ষমতায় থাকার পরও হেরে যায় আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা প্রিয়.কম-কে জানিয়েছেন, বুধবার সকালে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি তাদের চিন্তায় ফেলে দেয়। যদি ঘটনা অতীতের সিটি নির্বাচনের মতো হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জন্য ভরাডুবি হবে। তাই ঘন্টা দুয়েক দেখার পরই ১০টার পর থেকেই ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে শুরু করে সরকার সমর্থক প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা। বেলা ১১ টার মধ্যে ভোটারদের ভোট শেষ হয়ে যায়।

আর এটা করতে তাদের তেমন কোনো বেগই পেতে হয়নি। কারণ বিএনপি অধিকাংশ কেন্দ্রেই পোলিং এজেন্ট দিতে পারেনি। মামলার কারণে আত্মগোপনে থাকা প্রার্থীরা মঙ্গলবার ভোটের দিনেও প্রকাশ্যে আসেননি। তাদের কর্মী সমর্থকরাও ছিলেন না। ফলে সহজেই তেমন কোনো হঙ্গামা ছাড়াই ভোট কেন্দ্র দখল হয়ে যায়। ভোটাররা চলে যান। আর সাংবাদিকদের অনেক ভোট কেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়া হয়নি তখন।

আর পুলিশ ও নির্বাচনী কর্মকর্তারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া আর কোনো কাজ করেননি। দু’এক জায়গায় সহযোগিতাও করেছেন ব্যালট পেপারে সিল মারতে।

বিএনপি প্রার্থী যারা বাইরে ছিলেন তারা অসহায় আত্মসমর্পণ করে ভোট বর্জনের দিকে যান। কারণ প্রতিরোধের মতো তাদের কোনো প্রস্তুতি বা সক্ষমতা ছিল না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ মাহবুব উল আলম হানিফ অবশ্য বলেছেন, ‘পরাজয় নিশ্চিত জেনে আন্দোলনের ইস্যু সৃষ্টির জন্য নাটক করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তাই তার নির্দেশে বিএনপি’র প্রার্থীদের এই ভোট বর্জন।’

হানিফ বলেন, ‘বিএনপি যখন দেখছে তাদের প্রার্থীরা ভরাডুবির মধ্যে আছে, তখনই তারা নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না বলে প্রচার শুরু করে মিডিয়ার কাছে। তাই দুপুর না হতেই তারা তিন সিটিতেই নির্বাচন বর্জন করেছে।’

Facebook Comments