নির্বাচন বাতিল ও ইসির পদত্যাগ দাবি

0
26
Print Friendly, PDF & Email
1 216344

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে তামাশা ও প্রহসনমূলক অভিহিত করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি করেছে বিএনপি সমর্থিত ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের সদস্যসচিব শওকত মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গতকালের (মঙ্গলবার) নির্বাচন ছিল জাতির ইতিহাসে এক মহাকলঙ্কজনক ঘটনা। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি দলের যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডারদের স্বেচ্ছাচারিতায় পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। এ রকম ন্যক্কারজনক, তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচনকে আমরা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এখন আমরা এই মুহূর্তে তামাশার নির্বাচনটি বাতিল করে পুরো নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ। ১৯৪৬ সাল থেকে অনেক নির্বাচন দেখেছি। কিন্তু গতকাল ঢাকা ও চট্টগ্রামে যে নির্বাচনটি হয়ে গেল তার সঙ্গে কেবল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকেই তুলনা করা যায়। এই নির্বাচন দেশের মানুষের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। সে জন্য আমরা জাতীয় স্বার্থে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করছি।’ লিখিত বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনটি মোটামুটি সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের সে আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে। তারা (ইসি) গতকাল যা করেছে তাকে নির্বাচন না বলে নির্লজ্জ প্রহসন বলাই শ্রেয়। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন সরকারের মর্জি পূরণ করে নির্বাচনের নামে তামাশার মাধ্যমে জিতিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগকে। কিন্তু হারিয়ে দিয়েছে গণতন্ত্রকে।

নির্বাচন বর্জনের যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে শওকত মাহমুদ বলেন, প্রায় ৯০ ভাগ কেন্দ্রে আমাদের মনোনীত প্রার্থীর কোনো পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এজেন্টদের মধ্যে যারা ঢুকেছিলেন, তাঁদেরকে মেরে-পিটিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ-র‌্যাব ভোটকেন্দ্র দখল করে প্রতারণা, জালিয়াতি ও গায়ের জোরে ব্যালট পেপারে সিল মেরে নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছে। আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের সদস্যসচিব অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রের বাইরে আনসার-ভিডিপির হাফ হাতা জ্যাকেট পরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা সারাক্ষণ পাহারা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের টোকেন ছাড়া কারো পক্ষেই ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয়নি। সরকার বাইরে থেকেও সন্ত্রাসীদের ঢাকায় নিয়ে এসেছিল।

নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত পূর্বপরিকল্পিত- সরকারি দলের নেতাদের এ রকম বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শওকত মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন বর্জন যদি পূর্বপরিকল্পিত হতো তাহলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আমাদের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় নামতেন না। আমরা ভোটগ্রহণের দিন সকালেই বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্টদের কাছ থেকে বার্তা পাচ্ছিলাম, তাঁদেরকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, মারধর করা হচ্ছে। সাংবাদিকদেরও কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ঢোকাচ্ছে। আর এসব তথ্য পাওয়ার পর প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বাধ্য হয়েছি।’

বিএনপি কার্যালয় থেকে কেন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এলো জানতে চাইলে শওকত মাহমুদ বলেন, ‘মূলত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা প্রার্থীদের নিজেদেরই দিতে হয়। যেহেতু তাঁদের বিএনপি সমর্থন দিয়েছে সে জন্য আমরাসহ সেখানে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা হয়েছে। সেখানে প্রার্থীরা নিজের প্রত্যাহারের ঘোষণার কথাও বলেছেন।’ নির্বাচন কারচুপির প্রতিবাদে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শওকত মাহমুদ বলেন, ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটি নাগরিকদের একটি মঞ্চ। সে জন্য আমরা কোনো কর্মসূচির কথা ভাবছি না।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, কাদের গনি চৌধুরী, ড. মোরশেদ হাসান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments
শেয়ার করুন