১৪ দলে হতাশা

0
25
Print Friendly, PDF & Email
14-dal- 64433 0

ডেস্ক রিপোর্ট: সিটি নির্বাচন বর্জন সত্ত্বেও বিএনপি বিপুল ভোট পেয়েছে। এ নিয়ে খোদ ক্ষমতাসীন জোট- ১৪ দলেই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ভোটে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা জয়ী হলেও তাতে খুশি হতে পারেনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নেতারা।  আওয়ামী লীগ নেতারাও এনিয়ে সমালোচনা করেছেন। আজ শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকে এনিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিএনপি এরকম বিপুল জয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছেন বৈঠকে উপস্থিত নেতারা। বৈঠক থেকে বের হয়ে একাধিক নেতা ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৪ দলের একাধিক নেতা বলেন, বৈঠকে এক পর্যায়ে ১৪ দলের এক নেতা বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, গত তিনমাস ধরে দেশব্যাপী নাশকতা করেছে তারা। দুপুর ১২টায় বিএনপি ভোট বর্জন করেছে। কিন্তু তারপরও এতভোট কেন পেল বিষয়টি আমাদের চিন্তা করতে হবে। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবেই আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। তাদের অরাজকতা নিয়ে আমাদের আরো জনগণের কাছে যেতে হবে।

এ সময় উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশ্যে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আগামী বৈঠকে আলোচনা করে করণীয় ঠিক করা হবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও বর্জন করা পূর্ব পরিকল্পিত মনে করেছেন জোট নেতারা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বাবার সঙ্গে কথা বলে নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে চেয়েছিলো। কিন্তু বিএনপি জোর করে তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাননি। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ভুল থেকে শিক্ষা নেন না। কিন্তু আমরা ৫ সিটিতে ভুল করেছিলাম। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ৩ সিটি করপোরশেন নির্বাচনে জয় লাভ করেছি। জোট নেতারা আরও মনে করেন, মাত্র ৫৪টি কেন্দ্রের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। তারপরও এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

নির্বাচন নিয়ে কূটনৈতিকদের মন্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, তারা সব সময় বিপক্ষে বক্তব্য দেয়। একবার বলে তদন্ত করা দরকার অনিয়মের। আরেকবার বলে বিএনপির বয়কট করা ঠিক হয়নি। নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সমন্বয় ছিলো। কিন্তু ঢাকায় আরও সমন্বয় হলে ভালো হতো। সমন্বয়ের ঘাটতি ছিলো।  জোট নেতারা বলেন, গণমাধ্যম আগেই অতি উৎসাহী হয়ে অতিরঞ্জিত খবর প্রকাশ করেছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে এমন দল আছে ৪টি। বাকীদের মূল্যায়ন নেই। এমনকি সিটি নির্বাচনেও শরিকদের কোন প্রার্থীকে মূল্যায়ন করা হয়নি। এ নিয়ে নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৪ দলের এক নেতা বলেন, আমরা সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থন চেয়েছিলাম কিন্তু তাও আমাদের দেওয়া হয়নি। বিষয়টি আমরা আজকে উত্থাপন করেছিলাম। নাসিম ভাই আমাদের বলেছেন ভবিষ্যতে মূল্যায়ন করা হবে।

এ বিষয়ে ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, ১৪ দলের শরীকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ বাদে আছে ৪ দল। যারা সরকারে ১৪ দলের প্রতিনিধিত্ব করছে। অন্যদের মূল্যায়ন নেই। ভবিষ্যতে ১৪ দলকে তৃর্ণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করতে হবে। তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদি দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিম-ীর সদস্য নুরুর রহমান সেলিম,  সাধারণ সম্পাদক ড. শাহাদাৎ হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাস খান, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবদুস সোবহান গোলাপ, আফজাল হোসেন, বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু, মৃণাল কান্তি দাস, অসীম কুমার উকিল, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

সূত্র: ঢাকাটাইমস

Facebook Comments
শেয়ার করুন