ঢাকার বিএনপি থেকে বাদ পড়ছেন আব্বাস!

0
25
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট: তিন মাসের টানা আন্দোলন, এর আগে গত সাধারণ নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে গড়ে তোলা আন্দোলন এবং সর্বশেষ সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে সরকারের একচোখা মনোভাবের সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক ব্যর্থতাও ফুটে উঠেছে ভীষণভাবে। গত সাধারণ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর বিএনপির ব্যর্থতার পর পুরনো কমিটি বাতিল করে নতুন করে দায়িত্ব দেয়া হয় আব্বাস-সোহেলের ওপর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুর্ণাঙ্গ কমিটি করার ব্যর্থতার মধ্যদিয়ে নতুন কমিটির যাত্রা শুরু হয় এবং জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার দায় কাধে নিয়ে সরে যেতে হচ্ছে এক সময়ের ডাকসাইটে নেতা মির্জা আব্বাসকেও।দলের মধ্যে এ নিয়ে কথাবার্তাও শুরু হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে। হাইপ্রোফাইল নেতাদের নিয়ে গঠিত ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বয়স এরই মধ্যে এক বছর পার হয়েছে। কথা ছিল তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করে কমিটি ঘোষণার। কিন্তু এখনও এর অগ্রগতি অন্ধকারে। এই অবস্থার মধ্যে  গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে যে  ঢাকা মহানগর দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। আর এতে বাদ পড়ছেন বর্তমান আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস। তবে কবে নাগাদ তা শুরু হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মূলদল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে চিন্তিত বিএনপির হাইকমান্ড। কারণ ২০১৩র পর এবারের টানা আন্দোলনেও তেমন ফল আদায় করতে পারেনি দলটি। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে মাঠে থাকার নির্দেশনা থাকলেও ছিলেন না নেতাকর্মীরা। এর অন্যতম কারণ হিসেবে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা সামনে চলে এসেছে।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি না হলেও ভেতরে ভেতরে বিষয়টি নিয়ে হতাশ বলে জানা গেছে। সূত্র আরো জানায়, আপাতত কর্মসূচির দিকে নজর না দিয়ে দল গোছানোতে বেশি মনোযোগ দিতে চান বিএনপি প্রধান।বিএনপি চেয়ারপারসন মনে করছেন,  দল অগোছালো রেখে মাঠে নামলে আবারো তাদের শূন্য হাতে ঘরে ফিরতে হবে। উল্টো হামলা, মামলায় জর্জরিত হয়ে নেতাকর্মীরা ঘর ছাড়া হবেন। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এ ব্যাপারে একমত আছেন বলে জানা গেছে। শোনা যাচ্ছে, দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় এবার শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূলে নিষ্ক্রিয়দের ব্যাপারে কঠোর হবে বিএনপি। পদ নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান এমন নেতাদের বাদ দিয়ে মাঠে থাকেন এমন নেতাদের কমিটিতে স্থান দেয়া হবে। সাদেক হোসেন খোকা ও আবদুস সালামের কমিটিকে আন্দোলনে ‘ব্যর্থ’ উল্লেখ করে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকায় নতুন কমিটি দেয় বিএনপি। মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে দেয়া কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫২ সদস্য। এছাড়াও কমিটিতে উপদেষ্টা রয়েছেন দলের চারজন শীর্ষ নেতা। আর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় ছয়জনকে।

তবে হাইপ্রোফাইল নেতাদের এতো বড় বহরের কাউকেই গত আন্দোলনে মাঠে দেখা যায়নি। এমনকি খালেদা জিয়ার নির্দেশনার পরও সিটি নির্বাচনে মাঠে থাকেননি বিএনপি নেতাকর্মীরা। ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি কোন অবস্থায় আছে- জানতে চাইলে বর্তমান কমিটির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি যতটুকু জানি ৫০ থেকে ৬০টি ওয়ার্ড কমিটি চূড়ান্ত হয়েছে। এটা হয়ে গেলে থানায় থানায় সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।” মহানগর বিএনপি পুনর্গঠনের বিষয়ে এখনও কোনো খবর পাননি বলে জানান এই বিএনপি নেতা। তবে ঢাকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আছেন এমন নেতাদের দিয়ে কমিটি করার পক্ষে মত দেন তিনি। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। সময় হলে সব জানতে পারবেন।” আর স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতার জন্য সরকারকে দায়ী করলেন। তিনি বলেন, “নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবর্ণনীয় নির্যাতন করেছে। তাই আতঙ্কে তারা মাঠে নামতে পারেননি।” দল পুনর্গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না।”

Facebook Comments
শেয়ার করুন