সিটি নির্বাচন ছিল পুর্বের ন্যায় জালিয়াতিপূর্ণ: এএইচআরসি

0
12
Print Friendly, PDF & Email
ahrc

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) ও চট্টগ্রাম সিটিতে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০১৫) অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ৫ জানুয়ারির মত জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন (এএইচআরসি)। সংগঠনটি বলেছে, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক, পোলিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মিলে ব্যালটে ভোট জালিয়াতি করেছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল, ২০১৫) হংকংভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ আরেকটি জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচন দেখল। এ দিনের ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল প্রতারণায় ভরা। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক, পোলিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মিলে ব্যালটে সিল মারা এবং ভোট জালিয়াতি করেছেন। ” হিউম্যান রাইটস কমিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে বিবৃতিতে দাবি সকরা হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দিনের শুরু থেকেই ভোটকেন্দ্রে লোকদের আসা থেকে বিরত রাখতে সরকার সমর্থকরা সহিংসতার ঘটনা ঘটায়। এরপর দুপুরের দিকে লোকজন ভোট দিতে এলে পুলিশ ও পোলিং অফিসাররা ভোটারদের জানান তাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে। অনেক প্রার্থীও এ দিন ভোট দিতে পারেননি। এমনকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেননি। কারও ওপর হামলা এবং কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভোটকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও অনিয়মের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হলেও তারা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমন অবস্থায় দুপুরের মধ্যেই বিরোধী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকেই নির্বাচন বর্জন করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটের দিন সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ, ছবি তোলা ও ভিডিও করা থেকে বিরত রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর এবং তাদের ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ হামলা সত্ত্বেও গণমাধ্যমগুলো নির্বাচনে জালিয়াতির চিত্র তুলে ধরেছে।
এত কিছুর পরও নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবের আমেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিবৃতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিও এ ধরনের জালিয়াতিপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত এবং খারাপ ফলাফল বয়ে আনবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়েছে।
ভবিষ্যত সংকট এড়ানো ও গণতন্ত্রের ধারা বজায় রাখতে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কার্যকর সংস্থা গড়ে তোলা উচিত বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে।

Facebook Comments