জিসিসি ভবনে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় ২ মামলা, গ্রেফতার ১

0
11
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ১৩ মে বুধবার রাতে ভাঙচুরের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন বাদী হয়ে স্বেচ্ছাসেবকগীগ নেতা ও ঠিকাদার শাহজাহান মিয়া সাজু, অপর ঠিকাদার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রিপন ও তার ভাই গাজীপুর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলী হোসেন সহ অজ্ঞাত আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় আহত ঠিকাদার ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রিপন বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। জয়দেবপুর থানার ওসি রেজাউল করিম মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করে জানান, জিসিসি কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান মিয়া সাজু নামে এক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। জিসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, ‘দুই ঠিকাদারের মধ্যে কী নিয়ে দ্বন্দ্ব তা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। তারা নগর ভবনে হামলা করে এর পবিত্রতা নষ্ট করেছে। তাই দায়ী ব্যক্তি যেই হোক তাকে আইনে আওতায় আনতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে নগর কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে।’

এসব ঘটনায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দেড়শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১২ মে থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫টি অঞ্চলে ৬১৪টি গ্রুপে দেড়শ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার হয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র সিডিউল বিক্রি করতে বাধা দেওয়ায় কয়েকদিন ধরে ঠিকাদারদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। এরই জের ধরে বুধবার দুপুরে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে তারা সিটি করপোরেশন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২০১ নম্বর কক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আকবর হোসেনের টেবিলের কাঁচ ভাঙচুর করে। এছাড়া তারা নির্বাহী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান কাজলের কক্ষের জানালার কাঁচ, সহকারী প্রকৌশলী এসএম সামসুর রহমান, শহর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশল বিভাগের জানালার কাঁচ ও বিভিন্ন স্থানে থাকা ফুলের টব ভাঙচুর করে। মারামারি থামাতে গিয়ে ওই তিন কাউন্সিলর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনর রশীদ বিপুল পরিমান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনর রশীদ বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Facebook Comments
শেয়ার করুন