বিবিসির বিশ্লেষণ ইইউর সংস্কার অভিযানে সফল হবেন ক্যামেরন?

0
20
Print Friendly, PDF & Email
2f11638c8e6194126d3de7f50361d856-4

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সাম্প্রতিক ‘গতিময় ইউরোপ সফর’ নিয়ে আলোচনা অনেক হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি গিয়েছেন মাত্র চারটি দেশের রাজধানীতে। অনেকের মনেই প্রশ্ন, ক্যামেরনের ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা কি ইউরোপীয় সহযোগীদের কাছে হালে পানি পেল? নিজ দলের এমপিদের সম্ভাব্য বিদ্রোহ এ আলোচনার আগুনে ঘি ঢালবে নিঃসন্দেহে।যুক্তরাজ্য-ইইউ সম্পর্কের নতুন রূপ দেওয়া নিয়ে দর-কষাকষি করতে নেমেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। সেই দর-কষাকষি শুরুর আগে ক্যামেরন ওই সফরে অন্য ইইউ নেতাদের এ কথাটাই বলে দিতে চেয়েছেন যে এটা যুক্তরাজ্য বনাম বাকি ইউরোপ, এমন কোনো ব্যাপার নয়।

ইইউতে থেকে যাওয়ার শর্ত হিসেবে যুক্তরাজ্য এর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে পরিবর্তন আনার জন্য যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে, সেখানে একটি বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছেন ইউরোপের নেতারা। তাঁরা চাইছেন, যুক্তরাজ্য পরিবর্তনের বিষয়টাকে চাপিয়ে না দিয়ে একটা প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করুক।বিষয়টা নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষি শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাজ্যের জন্য সবার মনের অবস্থাটা বোঝা এবং সুরটা নিজের পক্ষে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, ক্যামেরন প্যারিসে গিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন, যেসব ইস্যুতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এক কাতারে দাঁড়াতে পারে। আর নেদারল্যান্ডসে গিয়ে তিনি দেশটিকে বর্ণনা করেছেন, ‘পুরোনো বন্ধু’ এবং ‘সমভাবাপন্ন মিত্র’ হিসেবে।ইইউতে একটি অর্থবহ সংস্কার আনতে হলে যুক্তরাজ্যকে ২৮ দেশের এই জোটভুক্ত অন্য নেতাদের পাশে রাখতেই হবে। বিষয়টা মাথায় রেখেই ক্যামেরনের সফরের দেশগুলো বাছাই করা হয়েছিল। নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি সহজাতভাবেই যুক্তরাজ্যের বন্ধুভাবাপন্ন দেশ। তিন দেশ মিলে একটি শক্তিশালী একক বাজারও।

ফ্রান্সের ক্ষেত্রে আগের কোনো কথাই সত্য নয়। তবে জার্মানির বাইরে ইইউর সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ হিসেবে সেখানে যাওয়াটা ক্যামেরনের জন্য অবশ্যকর্তব্য ছিল। আর পোল্যান্ড ইইউর উঠতি নতুন শক্তি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপ প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ করেছে পোলিশরা। কিন্তু শুক্রবার ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠকে পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ইভা কোপাজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশটি ইইউ চুক্তির কিছু বিষয়ে পরিবর্তনের প্রচণ্ড বিরোধিতাই করবে।

এ ক্ষেত্রে জার্মানি হয়তো ক্যামেরনের বড় ভরসা। যুক্তরাজ্যের বাইরে ইইউর সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল দৃশ্যত ক্যামেরনের অবস্থানের প্রতি সহানুভূতিশীল। ম্যার্কেল বলেছেন, যুক্তরাজ্যকে জোটে রাখার জন্য প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে পরিবর্তন আনতে হলে ইইউকে তা করতেও হতে পারে।ম্যার্কেলের উদ্বেগ, ব্রিটিশ অর্থনীতি, সামরিক বাহিনী ও বিশেষজ্ঞ কূটনীতিবিহীন ইইউ একেবারে দুর্বল হয়ে পড়বে।বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী হিসেবে পরিচিত আঙ্গেলা ম্যার্কেল যখন ক্যামেরনের ‘ভিন্ন ধরনের ইইউ’ পরিকল্পনার শুভাকাঙ্ক্ষী, তখন ধরে নেওয়া যায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সফল হয়েছেন। কারণ, সাধারণত ইইউ প্রশ্নে জার্মানি যা বলে, অন্যরা তা মানে।

Facebook Comments
শেয়ার করুন