কালিয়াকৈরে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক খানাখন্দে ভর্তি; যান ও জন সাধারনের চলাচলের চরম ভোগান্তি

9
Kaliakair-Pic-4

মোঃ হুমায়ুন কবির, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ও দীর্ঘদিন রাস্তাঘাট সংস্কারের অভাবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে কার্পেটিং উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট-বড় গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে, প্রতিদিন বিভিন্ন সড়কে দূর্ঘটনাও ঘটছে। এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী লোকজন ও পরিবহন ড্রাইভার সুত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে। সে গুলোর মধ্যে ৬টি সড়কের অবস্থা ভয়াবহ। এগুলো হচ্ছে সফিপুর-বড়ইবাড়ি, সফিপুর-আন্ধার মানিক, মৌচাক-ফুলবাড়িয়া, পল্লীবিদ্যূৎ-মাটিকাটা ও কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়ক ও বাড়ই পাড়া হইতে বলিয়াদি সড়ক। ওই সড়ক গুলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। একারণে ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন সহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক ও জনসাধারন চলাচল করে। কিন্তু টানা বর্ষণ ও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না করায় সড়কগুলোতে দুই পাশের মাটি সরে গেছে, কার্পেটিং উঠে কাঁদামাটিতে পরিণত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে হাজারো ছোট-বড় গর্ত। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। সড়কে বাড়ছে দূর্ঘটনাও। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অকালে ঝড়ে যাচ্ছে তাজাপ্রাণ। এব্যাপারে একাধিকবার সংশ্রিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও আশানুরোপ কোনো ফল পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি ওই আঞ্চলিক সড়কগুলি ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার মৌচাক থেকে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। সড়কের বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে কাঁদামাটি ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে ১ থেকে দেড়ফুট পর্যন্ত গর্ত হয়ে সড়কে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একই অবস্থা সফিপুর-বড়ইবাড়ি, সফিপুর-আন্ধার মানিক, পল্লীবিদ্যূৎ-মাটিকাটা ও কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়কেও। সংস্কারের নামে কোন রকমে সড়কে জোড়াতালি দিলেও ফের আগের অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও রাস্তাটির প্রশস্ততা কম, অনেক স্থানে দুপাশে মাটি নেই ও ভেঙ্গে গেছে। আবার কিছু কিছু অংশে ১২ ফুটের পিচ ও মাটি ভেঙ্গে মাত্র ১-২ ফুট রাস্তায় পরিনত হয়েছে। একটি গাড়িকে অন্য একটি গাড়ির পাশ কাটাতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অথবা এদের মধ্যে একটি গাড়িকে পিছনে ফিরে গিয়ে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে দাঁড়িয়ে পাশ কাটাতে হয়। এতে অনেক সময় ব্যয় হচ্ছে, ঘটছে দূর্ঘটনাও।

Kaliakair25-07-15road--Pi এদিকে বাড়ই পাড়া হইতে গোসাত্রা পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার কাজ কয়েক মাস আগে ধরলেও কাজ চলছে অত্যান্ত ধীরগতিতে। ১কিলোমিটার রাস্তা কার্পেটিং হলেও অত্যান্ত নিন্মমানের কাজ করাতে বৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এখনি। রাস্তার কাজ শেষ না হতেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দে ভরে গেছে। তবে পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের দুইপাশে ড্রেন নাথাকায় সড়কের উপর পানি জমে সড়ক নষ্ট হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সড়কের পাশে কিছু কিছু স্থানে ড্রেন নির্মান করলেও স্থানীয় বাসবাড়ির ও শিল্পকারখানার মালিকরা ওই ড্রেন বন্ধ করে দিয়েছে। একারনে সড়কের অবস্থা আরোও বেশী নষ্ট হচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে সড়কের দুপার্শ্বের ড্রেনগুলি উদ্ধার করা হলে সড়ক সহজে নষ্ট হবেনা বলে এলাকার বিজ্ঞমহল মনে করেন। এর ফলে রাস্তা ভাল থাকবে এবং জনগনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে। ওই সড়কের বাসচালক মো.জাহাঙ্গির আলম, গাড়ি চালক শাহালম মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন, বৃষ্টির পানি জমে সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় ভেঙ্গে গেছে ও খানাখন্দে ভরে গেছে, কোথাও ভাল রাস্তা নেই বলেলই চলে। কোনো কোনো জায়গায় ২-৩ ফিট পর্যন্ত গর্ত আছে, যা গুলাপানির জন্য মেরামত করতে অনেক টাকা খরচ হয়। এছাড়া দুর্ঘটনা তো আছেই। ২০ মিনিটের রাস্তা যেতে এখন সময় লাগছে প্রায় ২ ঘন্টা। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। কালিয়াকৈর পরিবহন মালিক সমিতি লোকজন জানান, রাস্তাগুলি খারাপ থাকায় গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, সময়ও বেশি লাগছে। ওই নষ্ট গাড়ি মেরামত করতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। এসব কারণে গাড়ির চালকরা ওই সড়কে গাড়ি চালাতে অনীহা প্রকাশ করছে। তবে সড়কগুলো মেরামত না করলে গাড়ি বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। ওই আঞ্চলিক সড়কগুলোর খারাপ অবস্থা স্বীকার করে কালিয়াকৈর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. জিল্লুর রহমান জানান, মৌচাক-ফুলবাড়িয়া সড়কের যেখানে যেখানে খুব খারাপ অবস্থা, সেখানে কাজ চলছে। আর সফিপুর-বড়ইবাড়ি সড়কের টেন্ডার হয়েছে। এছাড়া খুব তাড়াতাড়ি সকল সড়কের কাজ শুরু হবে।

Facebook Comments