ফের কালীগঞ্জে হা-মীম গ্রুপের তান্ডব; বিপর্যস্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পরিবারবর্গ

15
1

স্টাফ রিপোর্টার : কালীগঞ্জের সাবেক মসলিন কটন মিলস এর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন-ভাতার কোটি কোটি টাকা পরিশোধ না করে হা-মীম গ্রুপ তাদের নিয়োগকৃত আনসার ও স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ষ্টাফ কোয়াটারে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিকদের কোয়াটার থেকে বের করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই মিথ্যা অভিযোগে আট দশটি পরিবারকে উচ্ছেদের পর গতকাল আরেকটি কোয়াটারে হামলা ও লুট পাট করে পরিবারটিকে রাস্তায় বের করে দিয়েছে হা-মীম গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। সরেজমিনে জানা যায়, রবিবার দুপুর ১.৩০ টায় আব্দুল জলিলের স্ত্রী বেলী বেগম ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকাবস্থায় বিনা নোটিশে হা-মীম গ্রুপের এডমিন মোঃ শামীম হোসেন নেতৃত্বে সিকিউরিটি কর্মকর্তা মোফাজ্জাল, হাবিবুল্লাহর পুত্র ফোরকান, শ্রমিক নেতা ইউসুফ মিয়ার পুত্র বাপ্পী, শরীফুল, আতিকসহ ৫০/৬০ জন আনসার সদস্য ও স্থানীয় সন্ত্রাসী তার কোয়াটারে হামলা করে। এসময় হামলাকারীরা কোয়াটারের ২য় তলার ২টি কক্ষে প্রবেশ করে দরজা-জনালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে বেলী বেগমকে নির্যাতন করে ঘর থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে নগদ ১০ হাজার টাকা, ১ ভরি স্বর্ণালংকার ও দামী জিনিস পত্র লুট করে নিয়ে যায়। এসময় হামলায় রুবেল, শিপন, বাপ্পী-২, ফাহাদ, বিশাল, রিতা বেগম, শিমুল ও লিমন নামে কয়েকজন আহত হয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার এসআই আমজাদ হোসেন ও এসআই তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

সাবেক মসলিন কটন মিলস এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, হা-মীম গ্রুপ কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতাদি পরিশোধ না করে ও পূর্ব নোটিশ ছাড়া কিছু দিন পরপর মিথ্যা মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ঘরের নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে ভাংচুর করছে। অথচ কোয়াটারে অবস্থানরত কোন পরিবারের সদস্যই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নই। মূলত বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার লক্ষে সবাইকে উচ্ছেদ করাই হচ্ছে হা-মীম গ্রুপের মূল উদ্দেশ্য। হা-মীম গ্রুপের এডমিন মোঃ শামীম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কোয়াটার অবস্থানরত পরিবারটি মাদক ব্যবসা করছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোন অভিযোগ নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন। গত ২২ জুন একই অভিযোগে চার পাঁচটি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। কোয়াটারের সবাই কি মাদক ব্যবসায়ী? এমন প্রশ্নে তিনি “স্যার ফোন করেছেন” বলে কলটি কেটে দেন। উল্লেখ্য, এক সময়ে এশিয়ার বিখ্যাত মসলিন কটন মিলসটি সরকার প্রায় ২ বছর পূর্বে হামীম গ্রুপের কর্ণদার এ.কে আজাদ চৌধুরীর নিকট শর্ত সাপেক্ষে বিক্রি করে। মিলের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় পাওনা পরিশোধ না করেই বর্তমানে মিলটি রিফাত গার্মেন্টস লিঃ নামে পরিচালিত হচ্ছে। এ মিলটি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে হস্তান্তরের বিষয়ে দূর্ণীতি দমন কমিশন কারারুদ্ধ সাবেক বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

Facebook Comments