সরকারদলীয় ‘ক্যাডার’দের হামলায় আহত তুলসী রাণীর গর্ভের সন্তান নিহত

0
9
Print Friendly, PDF & Email
TULSI RANI

লহ্মীপূজায় আতশবাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে ফেনীর জেলেপাড়ায় সরকারদলীয় ‘ক্যাডার’দের হামলায় আহত তুলসী রাণীর গর্ভের সন্তান নিহত হবার ঘটনায় তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টসহ অসংখ্য মানুষ ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

ব্লগার ও অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক লিখেছেন, ‘একসময় নির্মল সেনকে লিখতে হয়েছিল, ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’, এখন কালের বিবর্তনে ‘অন্তত স্বাভাবিকভাবে জন্মানোর গ্যারান্টি চাই’ লেখার কি কথা আমাদের? গর্ভের গুলিবিদ্ধ শিশুর ঘটনার পরে এখন লাথিতে গর্ভজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে- এই খবরে স্তম্ভিত হয়ে বসে আছি।’

গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ইমরান এইচ সরকার এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ শেয়ার করে প্রধান সন্দেহভাজন ইকবালসহ জড়িতদের প্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে লিখেছেন, ‘সীমালঙ্ঘনকারীর কোনো ক্ষমা নেই। আগামী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ফেনীর সরকার দলীয় সন্ত্রাসী ইকবাল ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানাই। তা না হলে শিশু রাজনের ঘটনার মতো আবার ফুঁসে উঠবে বাংলাদেশ। বিবেকবান মানুষেরা আর ঘরে বসে থাকবেন না।’

মধ্যরাতে সাংবাদিক নেতা পুলক ঘটক গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে লিখেছেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেটে লাথি মেরে গর্ভের শিশু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮ যুবলীগ কর্মীকে পুলিশ বেশি সময় থানায় রাখেনি। শুক্রবার ছুটির দিনেই তরিঘড়ি করে আদালতের সামনে হাজির করে জেলে পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। রিমান্ড চাওয়া হয়নি। এর পিছনে নিশ্চয় কোনও যুক্তি আছে। আসুন আমরা সেসব যুক্তি শুনার অপেক্ষায় থাকি।’

অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত নৃবিজ্ঞানের গবেষক এ টি এম গোলাম কিবরিয়া লিখেছেন, ‘উপমহাদেশ না, ঘৃণামহাদেশ। ঘৃণা ভালোবাসার চেয়ে শক্তিশালী এই মহাদেশে। গরু, শিয়া ও শিশু। একের পরে এক শিশু। গর্ভে গুলি খাওয়া, গর্ভে লাথি খাওয়া শিশু। ফেরাউনের রাজ্যে, কংসমামার রাজ্যে শিশুরা অনিরাপদ ছিলো। লক্ষীপূজায় বাজি পোড়ানো পছন্দ হয়নি আওয়ামীলীগের ফুড চেইনে সবার নিচে থাকা একটি অংশের। তারা বাঙালী, মুসলমান, আওয়ামীলীগ, পুরুষ।’

ফেসবুকে মারুফ আব্দুল্লাহ নামে একজন লিখেছেন, ‘পরাজিত শক্তির বিভৎস ত্রাস, মানবিক বিপর্যয়ে আমার আবাস। এসব কেনো বন্ধ হয়না ? কেনো ? পশুশক্তির কাছে সকলেই তবে কি জিম্মি আমরা ? দিনের পর দিন শুধু পত্রিকার পাতাতেই খবর হতেই থাকবে? এই নির্মমতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চাই।’

জুলিয়াস সিজার নামে একজন শিশুটির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। আর মন্তব্যের ঘরে কাজী আশরাফ আল কাদের নামে একজন প্রশ্ন রেখেছেন, মানবিকতা তুমি আর কতোবার হারলে পাশবিকতার ওপর জিততে শিখবে?  

সুদীপ্ত দীপ নামে একজন লিখেছেন, ‘হিন্দুদের জন্য এই বাংলাদেশ কখনও ফুঁসে উঠবে না।’

প্রসঙ্গত, গেল ২৮ তারিখে লহ্মীপূজার দিন ফেনীসদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামের জেলেপাড়ায় সরকারদলীয় ক্যাডার ইকবালের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন  লক্ষ্মীপূজায় আতশবাজি ফোটানোর জের ধরে  হামলা করে বাড়িঘরে ভাংচুর চালায়। এ হামলায় সন্তানসম্ভবা তুলসী রানী দাসসহ (২০) অন্তত ১০ জন আহত হন।

এর আগে গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরে যুবলীগের সমর্থক দু’গ্রুপের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হন যুবলীগ কর্মী কামরুল ভূঁইয়ার বড় ভাইয়ের গর্ভবতী স্ত্রী নাজমা খাতুন ও চাচা মমিন ভূঁইয়া। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে আব্দুল মমিন হাসপাতালে মারা যান। আর চার ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচারের পর নাজমা বেগম (৩৫) নামের ওই গৃহবধূ শুক্রবার রাতে (২৪ জুলাই) একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন।

মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশুটি পিঠে গুলির ক্ষত নিয়ে ২৬ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট বাড়ি ফেরে শিশু সুরাইয়া। সরকারদলীয় ক্যাডারদের হামলায় সুরাইয়া তার মায়ের কাছে ফিরতে পারলেও পৃথিবীর আলোই দেখতে পারলোনা তুলসী রাণীর গর্ভের সাত মাসের শিশু সন্তানটি।

Facebook Comments