ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

0
32
Print Friendly, PDF & Email

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের নামে ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ আঠারটি মামলা রয়েছে। সব মামলায়ই তার জামিন হয়ে গেছে। যেকোনো সময় সে কারাগার থেকে ছাড়া পেতে পারে। পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে জামিনের আদেশ বাতিল করিয়ে তার মুক্তি ঠেকাতে। তবে তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সম্প্রতি আরেক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহম্মেদ ওরফে জোসেফের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন উচ্চ আদালত। ২০ বছর ধরে এ মামলায় সাজা খাটছে সে। তার দণ্ডভোগের মেয়াদ শেষ (১৪ বছর হিসাবে)। অন্যান্য মামলায় সে জামিন পেয়েছে। ফলে তার মুক্তি পেতে আইনগত বাধা নেই।

এই দুজনের মতোই আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্তত দেড় শ শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিন পেয়ে মুক্তির অপেক্ষায় আছে। তাদের জামিন ও মুক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের মুক্তি ঠেকাতে তত্পর পুলিশ সদর দপ্তর। এ ব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশেষ বৈঠক করেছেন। বৈঠকের আলোচনার নিরিখে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য হলো—সন্ত্রাসীদের অনেকে রাজনৈতিক তদবিরের জোরে মুক্তি পাচ্ছে। তারা রাজনৈতিক দলের নেতা বা আদর্শধারী পরিচয় দিয়ে জামিন পাওয়ার ব্যবস্থা করে নিয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা চেষ্টা করেও তাদের জামিন বা মুক্তি ঠেকাতে পারছে না। কারাগার থেকে বেরিয়েই তারা বাদীদের মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বলছে, নইলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। আবার কেউ চাঁদাবাজি প্রভৃতি অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা যাতে মুক্তি পেতে না পারে সে জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সতর্ক আছে। তারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হবে না। আমাদের দলের কোনো নেতার সন্ত্রাসীদের মুক্ত করার কাজে লিপ্ত থাকার প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত এক বছরে প্রায় দেড় শ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আদালত থেকে জামিন পেয়েছে। এখন তারা ছাড়া পাওয়ার অপেক্ষা করছে। সন্ত্রাসীদের মুক্তি ঠেকাতে সচেষ্ট থাকলেও তাদের নামে নতুন মামলা না থাকায় বেশ বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে পুলিশকে।

সূত্র জানায়, যেসব সন্ত্রাসী জামিন পেয়ে মুক্তির অপেক্ষায় আছে তারা শাসক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘আশীর্বাদপুষ্ট’। রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করেন। এ জন্য তাঁরা তাদের জামিনের পক্ষে তদবির করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের তালিকাভুক্ত কিছু সন্ত্রাসী জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছে।

পুলিশের তত্পরতা সত্ত্বেও কিভাবে সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে তা জানতে গোয়েন্দারা ব্যাপক অনুসন্ধান চালান। তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, সন্ত্রাসীরা শাসক দলের প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারস্থ হয়। নেতারা তাঁদের দলের নেতা বা কর্মী পরিচয় দিয়ে বের করে আনার চেষ্টা করেন। আবার পুলিশের প্রতিবেদন দুর্বল থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ যথাযথভাবে জামিনের বিরোধিতা করতে পারে না। ফলে সহজেই সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যায়।

পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘কোনো সন্ত্রাসীই যাতে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হতে না পারে সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা সব মামলায় জামিন পেয়েছে তাদের ব্যাপারে আমরা ওয়াকিবহাল।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের মুক্তি ঠেকাতে আমরা তত্পর রয়েছি।’

এই দেড় শ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার নাছির (১৭ মামলার একটিতে জামিন বাকি), সুইডেন আসলাম (রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার আওয়ামী লীগের দুই নেতা তাকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছেন), তোফায়েল আহম্মেদ ওরফে জোসেফ, আরমান মিয়া, সানজেদুল ইসলাম ইমন (৯টির মধ্যে একটি মামলায় জামিন বাকি), ইমনের সহযোগী মামুন (১৭টির মামলার মধ্যে একটিতে জামিন বাকি), খোরশেদ আলম রাশু (১৩টির মধ্যে একটিতে বাকি), মিরপুরের বস্তা ফারুক, পপলু, স্বপন, বাবুল, সালাম, কবির (বাবুল ও সালাম ইতিমধ্যে ছাড়া পেয়েছে), পুরান ঢাকার সারোয়ার (ছাড়া পেয়েছে), লালবাগের সোহেল ও টিপু, ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল (১২টির মধ্যে একটি বাকি), তার সহযোগী মনা (পাঁচটির মধ্যে একটি বাকি), কাফরুলের বদরুল, ইলিয়াস এবং মোহাম্মদপুরের পাভেলুর রহমান রতন (২৭টির মধ্যে একটি বাকি)।

Facebook Comments
শেয়ার করুন