গণতন্ত্র ধংসকারী কুখ্যাত বাকশাল দিবস আজ

0
69
Print Friendly, PDF & Email

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবের ইচ্ছা অনুসারে মাত্র ১১ মিনিটে চতুর্থ সংশোধনী পাস করে সংসদ। মুজিবের অঙ্গুলি হেলনে ২৯৪ জন পার্লামেন্ট সদস্য ঠা হয়ে যায়, কয়জন তো সংসদ থেকে বেরিয়েই যায়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিলটি নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা বা বিতর্ক করতে দেয়া হয়নি। এর দ্বারা পার্লামেন্টারী সরকার বদল হয় প্রেসিডেন্সিয়াল ফরমে। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদুল্লাহকে পদত্যাগের কোনো সুযোগ না দিয়া শেখ মুজিব হয়ে যান প্রেসিডেন্ট! জনগনের ভোট ছাড়াই মুজিবকে ৫ বৎসরের জন্য- অর্থাৎ ১৯৮০ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়। বলা হলো, ধরে নিতে হবে তিনি নির্বাচিত। আবার সংসদের মেয়াদ ৫ বছর বাড়ালেন, মানে নির্বাচন ছাড়াই ১৯৮০ সাল অবধি। এই সংশোধনীতেই বাকশাল বা জাতীয় দল গঠন করে পরে দেশের সব রাজনৈতিক দল এমনকি আওয়ামীলীগও নিষিদ্ধ করলেন মুজিব, সাথে বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও হরন করলেন, ৪ পত্রিকা বাদে সব নিষিদ্ধ, বিচারকদের স্বাধীনতা হরন করলেন। রাষ্ট্রপতির শপথ নিতে মুজিব আর দেরী করেননি, কোনো অনুষ্ঠান নয়, কাউকে দাওয়াতও নয়। ধর মুরগি জবাই কর। সংসদে বিল পাশের সাথে সাথেই প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ না নিয়ে শনিবার দিনই ওই সংসদ ভবনেই স্পীকারের কাছে শপথ নিলেন মুজিব। মুজিবের ভয় ছিল, সময় পেলেই ৪থ সংশোধনী আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে বাতিল হয়ে যাবে, তাই পরের দিন রবিবার ছুটির দিনকে সামনে রেখে অতীব দ্রুততার সাথে রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন। নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী মজিব এসাথে নির্বাহী, আইন, ও বিচার বিভাগের মাথা, দেশের সর্বেসর্বা হয়ে ফরমান জারি করেন, ১৯৭৫ সালের ২৫শে মে’র মধ্যে সকল সংসদ সদস্যকে বাকশালে যোগ দান করতে হবে নইলে বাতিল ঘোষিত হবে তাদের সংসদ সদস্যপদ।

এরপরে মুজিব চাইলেন আজীবনের জন্য ক্ষমতা। কথা ছিল ১৫ আগষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন, সেখানে তাকে আজীবনের জন্য রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হবে। উনি সেটা সদয় হয়ে মেনে নিবেন! কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ছিল ভিন্ন। মুজিবের আজীবনের ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা আল্লাহ কবুল করেছেন- তার হায়াত খাটো করে দিয়ে। ফলে রাষ্ট্রপতি থেকেই ব্রাশ ফায়ারে জীবন দিলেন মজিব, সাথে আরো ২৬ জন। স্বপ্ন পূরনের ৫ ঘন্টা আগে কাকডাকা ভোরে দেশবাসী শুনতে পায় মুজিব খুন হয়েছে! আ’লীগ নেতা মালেক উকিল বলেন, বাংলাদেশে ফেরাউনের পতন হয়েছে।

Facebook Comments
শেয়ার করুন