শ্রীপুরে নির্বাচনী হামলা, ভাংচূর, আহত-৭।

17
3 n 165x300

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা থাকলেও শ্রীপুরে স্থানীয় এমপিপুত্রের নির্দেশে চলছে পুলিশ। ফলে নৌকা সমর্থকদের আক্রমনে বিদ্রোহী পক্ষের  ৫জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ধানের শীষের প্রার্থীরা ঘরে বসে বসে  কর্মী দিয়ে রাতের অন্ধকারে পোষ্টার লাগালেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত জখমহতে হচ্ছে কর্মীদের।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বেপারীর পথসভায় সোমবার বিকেলে নৌকা সমর্থকেরা হামলা করে কমপক্ষে ৫জনকে আহত করেছেন। আহতদের মধ্যে গাজীপুর বারের সিনিয়র আইনজীবী শাহাবুদ্দিন বিএসপি ও রয়েছেন।

জানা গেছে, রাজাবাড়ি ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো: কুতুবুদ্দিন নৌকা প্রতীক সমর্থকদের হুমকির মুখে ঘরে বসে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সোমবার মধ্যরাতে পোষ্টার লাগাতে গিয়ে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা তার দুই কর্মীকে ধারালো ক্ষুর দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেছে। আহত দুই কর্মী  সোহাগ ও ইমরান বর্তমানে শ্রীপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর আগে স্থানীয় ইজ্জতপুর বাজারে কুতুব উদ্দিনের প্রচারণাকালে মাইক ভাঙচূর হয়েছে। এই সকল বিষয়ে রিটানিং অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন কুতুব উদ্দিনের স্ত্রী ও শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান শেখ ফরিদা জাহান স্বপ্না।

শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্র্র্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ আকন্দের অভিযোগ, নৌকা সমর্থকদের ভয়ে তার কর্মীরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। ভোট লুট করে নিয়ে যাবেন বলে তারা নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্ডলের কর্মীরা আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী(আওয়ামীলীগ) আব্দুল হাই বেপারীকে সোমবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণাকালে স্থানীয় বেলদিয়া গ্রামে ঘেরাও করেন। দ্বিতীয় দফায় তার উপর আক্রমন হওয়ার পর এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুরে পাঠায়। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আব্দুল হাই রিটার্নিং অফিসারের নিকট আবেদন করেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল হাই বেপারীর সমর্থকেরা নৌকা প্রতীকের প্রচারণাকালে একটি মাইককে ধাওয়া করে। এরপর নৌকা প্রতীকের প্রার্থী স্বশস্ত্র অবস্থায় গাড়ি বহর নিয়ে আনারস প্রতীকের বাড়ির দিকে রওনা হয়। সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ দুই প্রার্থীর বাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয়। ফলে কোন স্বহিংস ঘটনা ঘটে নি। আব্দুল হাই বেপারীর বাড়ির সামনে কর্তব্যরত শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) সাইফুল ইসলাম স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, এমপির নির্দেশে তারা আব্দুল হাই বেপারীর ছেলে ও ভাইকে গ্রেফতার করতে এসেছেন। এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেছেন, এমপির কথা বলে উত্তেজনা থামিয়েছি। জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম মন্ডলের বাড়ি এলাকায় দায়িত্বরত গাজীপুর ডিবি পুলিশ সোমবার রাতে নৌকা প্রতীকের এক কর্মীকে আটক করে। অতঃপর রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশ কাজ করবে কিন্তু এমপির নির্দেশে কেন  এই প্রশ্নের উত্তরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ হারুনর রশীদের গনমাধ্যম শাখার প্রধান মো: মমিন( পরিদর্শক) বলেছেন, এ রকম কথা বলে থাকলে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় সাংসদ এড. রহমত আলী অসুস্থ। তার পক্ষে তার ছেলে জামিল হাসান দুর্জয় পুলিশ নিয়ন্ত্রন করছেন।

আব্দুল হাই বেপারীর অভিযোগ, নৌকা প্রতীকের কর্মীরা অসংখ্যস্থানে তার মাইক বাঁধা দিচ্ছে। কর্মীদের হমুকি দিচ্ছে। তাকে হত্যার চেষ্টাও করছেন। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের  জন্য নির্বাচন কমিশনের দ্রুত হতস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মন্ডলের মোবাইল ফোনে ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments