কুড়িয়ে পাওয়া বৃদ্ধাকে স্বজনের কাছে ফিরিয়ে দিতে চায় তারা

0
16
Print Friendly, PDF & Email
2016 04 19 10 52 19 sV0qTHINMV2mvOFSXYZ4mmktfO9fsV original

ডেস্ক নিউজ : নারায়ণগঞ্জে কুড়িয়ে পাওয়া ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে চায় নারায়ণগঞ্জের চার যুবক। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধা মায়ের সেবাযত্ন ও চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতলে মায়ের পাশেই পালা করে থাকছেন ওই চার যুবক। তবে ওই বৃদ্ধা মায়ের গোসল ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার জন্য একজন নারীকেও রেখেছেন তারা।

সোমবার সকালে বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নারায়ণগঞ্জ-১০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানেই বৃদ্ধা সম্পর্কে এসব কিছু বাংলামেইলকে জানান মো. নাদিম হায়দার, মো. রকি, নয়ন দাস ও মো. পারভেজ।

বৃদ্ধার নাম নুর জাহান বেগম। তার বাবার বাড়ি জামালপুর জেলার দেগুলকান্দী। স্বামী নাম সানু সরকার, বাবা মিনার সরকার, ছেলে রুহুল আমিন, মেয়ে পেয়ারা বেগম, মেয়ের স্বামীর নাম করিম মিয়া। আর স্বামীর ঠিকানা দেগুলকান্দী।

ওই চার যুবকের মধ্যে মো. রকি গার্মেন্টেসের চাকরিজীবী, মো. পারভেজ সুপার স্টার বাল্ব কোম্পানির মিড ফিল্ডের সহকারী ম্যানেজার, মো. নাদিম হয়দার নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের ডিগ্রি (বিএ) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও গাড়ি চালক, নয়ন দাসও তোলারাম কলেজের বিএস তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।   

মো. রকি বাংলামেইলকে জানান, প্রায় এক মাস আগে ঝড়ের রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের তামাকপট্টি এলাকায় ওই বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখে তিনি, তার বন্ধু নাদিম ও পারভেজ সেখানেই সিদ্ধান্ত নেন তাকে প্রাথমিকভাবে সুস্থ করে তুলতে। যেহেতু ওই বৃদ্ধার তখনও পরিচয় বলতে পারছিলেন না। এরপর থেকে প্রায় একমাস তামাকপট্টি এলাকার স্বামীহারা ফিরোজা বেগমের কাছে রেখে সেবাযত্নের কাজ শুরু করেন। হাসপাতালে ভর্তি করতে প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। 

মো. রকি আরো বাংলামেইলকে জানান, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম ও জেলা সিভিল সার্জেন আশুতোষ দাসের সহযোগিতায় তারা ওই বৃদ্ধাকে দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করতে সক্ষম হয়। 

এছাড়াও হাসপাতালে জরুরি বিভাগের ডাক্তারদের তথ্য অনুযায়ী তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কোনো হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। বর্তমানে হাসপাতালের তৃতীয় তলার নারী বিভাগের ৩০৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।   

এদিকে, আরেক বন্ধু মো. পারভেজ বাংলামেইলকে জানান, নাদিমই প্রথম ওই বৃদ্ধাকে দেখে সব বন্ধুদের খবর দেন। এরপর থেকে আমরা আমাদের উপার্জনের অর্থ দিয়ে গত একমাস ধরে সেবাযত্ন করে আসছি। ফিরোজা বেগমের বাসায় রেখে এতদিন সেবাযত্ন করা হয়েছে। এর মাঝে কিছুটা সুস্থ হলে আমরা জানতে পারি বৃদ্ধার পরিচয়। এসব বিষয়ে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করি। যাতে বৃদ্ধা মায়ের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারি। তবে এতেও কারো কোনো খোঁজ-খবর পাওয়া যায়নি।

ওই চার বন্ধুর প্রত্যাশা দ্রুত বৃদ্ধাকে সুস্থ করে তার স্বজনদের কাছে যেন ফিরিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও বৃদ্ধার চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জে সহৃদয়বান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালে নারায়গঞ্জে আরো দুইজন বৃদ্ধাকে কুড়িয়ে পেয়ে সেবাযত্ন করেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গাউছুল আজম। তিনি বাংলামেইলকে জানান, এবারও নুর জাহান বেগম নামে ওই বৃদ্ধা মায়ের সেবাযত্নসহ সকল ব্যবস্থা করা হবে। 

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা শাসনগাঁও এলাকায় গত ১২ জুলাই গর্ভের সন্তান কর্তৃক বস্তায় ভেরে ফেলে দিয়ে যায় হাসিনা বেগম নামে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধাকে। এছাড়াও ২০১৫ সালে এপিল মাসে পুত্রবধূ নাতি মিলে ৩০০ শয্যার হাসপাতালে নাজমা বেগম নামে বৃদ্ধাকে ভর্তি করে চলে যায়।

Facebook Comments
শেয়ার করুন