ইকুয়েডরে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১৩

32
8

ডেস্ক নিউজ : ইকুয়েডরে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, দেশটিতে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৪১৩ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো আড়াই হাজারের মত মানুষ।

এদিকে শনিবারের ওই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সোমবারও ইকুয়েডরের পশ্চিম অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়নি।

ইকুয়েডরের ভূমিকম্পে কয়েকজন বিদেশিসহ এ পর্যন্ত ৪১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে। এদের মধ্যে  কানাডার দুইজন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ডের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট।

দেশের দুর্গত এলাকাগুলো পরিদর্শন শেষে প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়ে শনিবারের ওই ভূমিকম্পকে ৭০ বছরের মধ্যে সবচাইতে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে কয়েক শ কোটি ডলারের সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

ভূমিকম্পের পর থেকে পোর্টোভিয়েজো ও পেদার্নালস শহর দুটির শত শত মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। সাড়ে ১৩ হাজারের মত উদ্ধারকর্মী ইকুয়েডরের বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছেন।সোমবার রাতে উপকূলীয় শহর মান্তার এক হোটেলের ধ্বংসস্তূপ থেকে আরো ছয়টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিন বছর ও নয় মাসের দুটি মেয়ে শিশুও রয়েছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দুটো হচ্ছে পোর্টোভিয়েজো ও পেদার্নালস। শনিবারের ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল পেদার্নালস। শহরের মেয়র গাব্রিয়েল এলসিভার বলেছেন, ভূমিকম্পে গোটা শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এখানে সেখানে পড়ে আছে মৃতদেহ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন,‘আমরা এর ভয়াবহতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের একার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। এই দুর্যোগের মধ্যেও শহরটিতে  লুটপাট হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর সত্যতা স্বীকার করে জর্জ ইসকুইভেল নামের এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেছেন,‘এই দুর্যোগের মধ্যেও আমি লুণ্ঠনের মত জঘন্য কাজ করেছি। খাবার কেনার জন্য আমার টাকার দরকার ছিল। ভূমিকম্পে আমার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। শহরে পানি নেই, আলো নেই।’

এদিকে ইকুয়েডরের ভূমিকেম্পর পর সোমবার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়াতেও ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে। তবে জাপান ও ইকুয়েডরের ভূমিকম্পের মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইকুয়েডরে ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা আগে জাপানে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।

Facebook Comments