ছাত্রীদের যৌন নিপিড়ণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন

0
10
Print Friendly, PDF & Email
2 1

গাজীপুরে একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যৌন নিপিড়ণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও অবিলম্বে গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

১৮ এপ্রিল সোমবার সকাল ১০ টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১১ নং ওয়ার্ডের বাঘিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।  মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের অপসারণ ও গ্রেফতার দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে শিক্ষকরা তাদের বুঝিয়ে শান্ত করে এবং ক্লাস শুরু করেন।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসি আমাদের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিককে জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১১ নং ওয়ার্ডের বাঘিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবুল হোসেন বিরোদ্ধে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ৯ম শ্রেনীর দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ণের অভিযোগ উঠে। পরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নিকট অভিভাবক ও এলাকাবাসি ছাত্রী যৌন নিপীড়ণের লিখিত অভিযোগ করেন। পরে অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের দাবিতে ক্ষোভ করে তারা। প্রধান শিক্ষকের বিরোদ্ধে ৯ম শ্রেনীর দুই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে কু-প্রস্তব দেয় এবং রাজি না হলে পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়ার হুমকির বিষয়টি প্রথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। এঘটনায় পর পর কয়েক দিন বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থী। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এর সত্যতা পাওয়ায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সামছুল আলম সরকার আমাদের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিককে জানান, ছাত্রী যৌন নিপীড়ণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবুল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর আদালতে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা আমাদের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিককে জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ওই প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার করেছেন এবং আমাদের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। এঘটনায় গত ১৬ এপ্রিল শনিবার শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে। আজকের ঘটনা তদন্ত করে দেখার জন্য গাজীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মিরাজুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

Facebook Comments