টঙ্গীর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ২৫ ঘণ্টা ডিবি হেফাজতে

25
tongi map

টঙ্গীতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সরকারদলীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক ২৫ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় বিভিন্ন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই কাউন্সিলরের নাম নূরুল ইসলাম নূরু। তিনি টঙ্গীতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর নূরুল ইসলাম নূরু বলেন, ‘৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আমি সভাপতি পদপ্রার্থী। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় টঙ্গী ফাইসন্স রোডে আমার নিজ কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে নির্বাচনী কথা বলছিলাম। এ সময় গাজীপুর ডিবি পুলিশের একটি দল এসে এসপি সাহেবের সালাম দিয়ে আমাকে তাদের সাথে যেতে বলেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তাদের সাথে যাই। এরপর আমাকে কয়েক দফা ডিবি কার্যালয় ও জয়দেবপুর থানায় নেয়া হয়। সর্বশেষ কোর্টে নেয়ার পর আবার ডিবি কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয় এবং বেলা দেড়টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।’ কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বা কেন আটক করা হয়েছিল এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তেমন সুস্পষ্ট কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। শুধু বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং কখনো জয়দেবপুর থানা আবার কখনো ডিবি কার্যালয় এবং সর্বশেষ কোর্ট প্রাঙ্গণে নিয়ে আবার ডিবি কার্যালয়ে এনে বাসায় চলে যেতে বলা হয়েছে।’ কেন এভাবে হয়রানি করা হলো এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেডারেশনের নির্বাচন অথবা সিটি করপোরেশন সংক্রান্তে স্থানীয় কারোর ইন্ধনে এমনটি করা হয়েছে।
এ দিকে গতকাল বুধবার সকালে কাউন্সিলর নূরুর আটকের বিষয়ে পরিবারের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী শাহিনূর ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র জড়িত। তার ইন্ধনেই আমার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত মেয়রের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আমার স্বামী এর আগে প্রশ্ন তোলায় তাকে ডিবি পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করার জন্য এমনটি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। কাউন্সিলর নূরুল ইসলাম নূরুকে আটকের বিষয়ে গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments