দ্রুত জাতীয় নির্বাচন : নতুন কৌশল বিএনপির

0
21
Print Friendly, PDF & Email
flag

ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বে উদ্দীপ্ত বিএনপি এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি জাতীয় নির্বাচন চায়। এ লক্ষ্য পূরণে দলটিতে কৌশলগত বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আন্দোলনের চেয়ে সাংগঠনিক ও কূটনৈতিক তৎপরতাকেই জোর দেয়া হচ্ছে বেশি।

চলতি বছরের শেষের দিকে অথবা ২০১৭ সালের শুরুতে সরকার একটি নির্বাচনের দিকে যেতে পারে, এমন তথ্য রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে। যদিও এ নিয়ে দলটি তেমন উচ্চবাচ্য করছে না। জানা গেছে, বিএনপির এখন মূল লক্ষ্যই হচ্ছে পরবর্তী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা। এ জন্য কৌশলগত যেসব পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন সবই নেবে তারা। দলটির নেতারা মনে করছেন, পরবর্তী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলেই কেবল তা বিএনপির জন্য ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।

নির্বাচনকালীন সরকারকাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটি নতুন করে ভাবনা শুরু করেছে। তবে এ ভাবনায় কট্টর কোনো অবস্থান নেই। বিদ্যমানব্যবস্থায় অর্থাৎ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে দলটি প্রধানত আলোচনার পক্ষপাতী। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকারে তাদের অংশীদারিত্ব নির্ধারণ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যপরিধি খর্ব করা এবং নির্বাচন কমিশন ঢেলে সাজানোর দিকেই মূল ফোকাস তাদের। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিএনপি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা চায়। আর এটা নিশ্চিত করার পথে কোনো বিষয়েই অনমনীয় নয় তারা। প্রয়োজন শুধু আলোচনা-সমঝোতা।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি নতুন নির্বাচনের দাবিতে মাঠে রয়েছে। নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন থেকে প্রায় তিন মাস টানা আন্দোলন করেছে তারা। কিন্তু সরকারের ব্যাপক দমন-পীড়ন ও আন্দোলন পরিচালনায় সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে দলটিকে শেষ পর্যন্ত কোনো ফল ছাড়াই ঘরে ফিরতে হয়েছে। দলটির সিনিয়র এক নেতা বলেছেন, নতুন নির্বাচন বিএনপির এখন মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য কিভাবে পূরণ হবে, সেটাই মূল বিষয়। পরপর দু’টি আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায়, দাবি আদায়ে প্রথাগত আন্দোলন কতটা কার্যকর তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় নব্বইয়ের দশকের পুরনো আন্দোলনমুখী মানসিকতায় পরিবর্তন এনে নতুন কৌশলের দিকে এগোচ্ছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

২০১৪ সালের ওই নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত বর্তমান সরকারের প্রতি প্রভাবশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতিবাচক মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করছে বিএনপি। এ কারণে দলটি প্রভাবশালী এসব দেশের সাথে নিয়মিত সম্পর্ক রক্ষা করে চলছে। সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ রাখা হচ্ছে তাদের। এসব দেশ বিশেষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রের স্বার্থে নতুন নির্বাচনের পক্ষে রয়েছে বলে দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করেন।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথেও আস্থার সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে ভারতের সাথে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে পুরো বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেশী এই প্রভাবশালী দেশের নীতিনির্ধারকদের সাথেও নানা ইস্যুতে গত কয়েক মাসে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বৈঠক হয়েছে। ওই সব বৈঠকে বিএনপির উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিষয়টি যেমন উঠে এসেছে, তেমনি প্রতিবেশীর সাথে অংশীদারিত্বমূলক সুসম্পর্কের দিকগুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি এ বছরের শুরুতে পৌরসভা নির্বাচন ও গেল দুই ধাপের ইউপি নির্বাচনের সহিংস পরিস্থিতির তথ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রভাবশালী দেশগুলোকে জানিয়েছে বিএনপি। দলটিরই সিনিয়র এক নেতা বলেন, নতুন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য বিএনপির দাবির পক্ষে এগুলো দলিল হিসেবে কাজ করবে। বিএনপি প্রমাণ করতে চাইছে, বিদ্যমান বাস্তবতায় দলীয় সরকারের অধীনে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সূত্র : নয়া দিগন্ত।

Facebook Comments