লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারে মামলার কথা ভাবছে না সরকার

14
1457529459

বাংলাদেশকে অর্থ হস্তান্তর করতে হলেও ফিলিপাইনের আদালতের অনুমতি লাগবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকেও আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং একই আদালতে মামলা করতে হবে, এছাড়া অন্য কোন প্রক্রিয়ায় কোন অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ফিলিপাইন
{facebookpopup}
এদিকে, মামলা করার মাধ্যমে লুট হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারের চিন্তা-ভাবনা করছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। সরাসরি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বিকল্প পন্থা হিসেবে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে যা মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স নামে পরিচিত সেই পদ্ধতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সর্বশেষ, বুধবার ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান রালফ রেক্টো এক বিবৃতিতে আহ্বান করেছেন উদ্ধার হওয়া অর্থ হস্তান্তরের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করার জন্য। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, আগামী ৩০ জুন দেশটির প্রেসিডেন্ট অ্যাকুইনো ক্ষমতা ছাড়বেন।

সূত্র জানিয়েছে, অর্থের মালিকানা দাবি করতে বাংলাদেশের কাছে প্রয়োজনীয় আইনি তথ্য-প্রমাণ চেয়েছে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিল(এএমএলসি)। বাংলাদেশের ফিনান্সিয়্যাল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য আছে কি-না তাও জানতে চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এএমএলসির সঙ্গে আলোচনা করে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। তখন ফিলিপাইনের এএমএলসি পরিস্কারভাবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে জানিয়ে দিয়েছে, অর্থ নিতে হলে বাংলাদেশকে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। সেজন্য পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ দিতে হবে বাংলাদেশকে। এ অর্থের মালিকানা বাংলাদেশকে দাবি করতে হবে আদালতে।

উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে জানানোর পরে আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ঠ সকল বিভাগের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আরো কাগুজে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রটি জানিয়েছে। আইনজীবী ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা সাংবাদিকদের বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, অর্থ উদ্ধারে আপাতত মামলার কথা ভাবা হচ্ছে না। বিকল্প পন্থা নিয়ে কনসার্ন ডিপার্টমেন্টগুলো কাজ করছে। মামলা করার প্রয়োজন হলে তখন দেখা যাবে। তিনি আরো বলেন, ফিলিপাইনে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য নিয়ে কাজ করছেন কনসার্ন ডিপার্টমেন্ট। এ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তারাও সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

এর আগে গতকাল তিনি বলেছিলেন, রিজার্ভের অর্থ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা বিধিসম্মতভাবে গ্রহণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Facebook Comments