কাশিমপুর কারাগারের সামনে কারারক্ষীকে গুলি করে হত্যা

17
aEPT original

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অবসরকালীন ছুটিতে থাকা এক কারারক্ষী। নিহতের নাম রুস্তম আলী। তিনি সর্বশেষ কাশিমপুর কারাগারের মহিলা ইউনিটে সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিন মোটরসাইকেল আরোহী কারাগারের সামনের একটি দোকানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে রুস্তমকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

রুস্তম আলীর বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার চরকগাছিয়া গ্রামে। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে থেকে তিনি অবসরকালীন ছুটিতে ছিলেন।
{facebookpopup}
পুলিশ ও প্রতিক্ষদর্শীরা জানায়, আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর রুস্তম আলী কাশিমপুর কারাগার সংলগ্ন প্রধান গেটের সড়কে আহমেদ মেডিসিন কর্নার নামের একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান। এসময় তিনজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে অতর্কিতে এসে রুস্তমকে লক্ষ করে গুলি চালায়। এসময় রুস্তম আলীর বুকে ও মাথায় গুলি লাগে। এতে রুস্তম আলী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান।

পরে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। সেখানেই তার মরদেহ রয়েছে।

এদিকে ঘটনাস্থলে এখনো ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে আছে। ঘটনার পরপরই র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ ঘিরে রেখেছে ঘটনাস্থল।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশসুপার মনোয়ার হোসেন বাংলামেইলকে বলেন, ‘রুস্তম আলী পিরোজপুরের কারাগার সংলগ্ন এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করার কথা ভেবেছিলেন। জমি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ জড়িত আছে কি না পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’

হত্যার সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে।’

এ ঘটনায় আহমেদ মেডিসিন কর্নরের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানান, নিহত রুস্তম আলী কাশিমপুর মহিলা কারাগারের সুবেদার ছিলেন। তার আগে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে থেকে তিনি অবসরকালীন ছুটিতে ছিলেন। আর কয়েক মাস পরই তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।

সাবেক সহকর্মী রুস্তম আলীর বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান কারারক্ষী সাইফুল ইসলাম বাংলামেইলকে বললেন, ‘রুস্তম হাবিলদার (তিনি এ নামেই পরিচিত ছিলেন) ভালো লোক ছিলেন। অন্যায়কে মানতেন না। হয়তো ভেতরে কেউ তার কাছে অন্যায় কোনো আবদার করেছিলেন। সেটা না মানার কারণেই তাকে খুন করা হতে পারে।’

Facebook Comments