বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ কূটনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভূত: এম শাহীদুজ্জামান

0
28
Print Friendly, PDF & Email
Shahiduzzaman

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতপররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে ভারতের উদ্বেগের কথা তাকে জানাতে বলেনএক টুইটার বার্তায় তাদের এই উদ্বেগের কথা জানান সুষমা স্বরাজ

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই উদ্বেগকে বাংলাদেশ কতটা গুরুত্বের সাথে নিতে পারে এই বিষয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামানতিনি বলেন, ভারতের সুষমা স্বরাজের এই উদ্বেগকে বাংলাদেশ যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নেয়, এটাই বাস্তবতা তবে এখানে একটা মৌলিক প্রশ্ন হল ভারত বাংলাদেশের এই অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার বিষয়ে কেন উদ্বিগ্ন হবেএটা দুটি বন্ধু প্রতীম দেশের সম্পর্কে নতুন করে চীড় ধরায়শুধু তাই না এটা উস্কানীমূলক বিষয় হিসাবে পরবর্তীতে গণ্য হয়

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আচরণ কূটনীতির যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হল কিনা এর উত্তরে এম শাহীদুজ্জামান বলেন, এখানে কূটনীতির যথাযথ প্রক্রিয়া মোটেই অনুসরণ করা হয় নাইকেননা ভারত যদি মনে করে এইভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো এবং নিজস্ব উদ্বেগ হিসাবে দেখে তখন অবশ্যই কূটনীতির স্বাভাবিক যে ধারা তাকে আঘাত করে
আগেও ভারতের পক্ষ থেকে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে ভারতের সরকারের এ ধরনের আচরণের কি কারণ থাকতে পারে সে সম্পর্কে এম শাহিদুজ্জামান বলেন, প্রথমত যেহেতু ভারতে বিজেপি বা ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় রয়েছেঅভ্যন্তরীণ একটা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন, যে বাংলাদেশকে আমরা শাসন করছিদ্বিতীয়ত আরেকটা কারণ থাকতে পারে এটা বুঝিয়ে দেয়া ভারত একটা বড় দেশ এবং বড় দেশ হিসাবে তাদের এই ধরনের হস্তক্ষেপ করার মত শক্তি রাখে
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কোন দুর্বলতা চোখে পড়ছে কিনা এর উত্তরে এম শাহীদুজ্জামান বলেন, এটা বাংলাদেশ সরকারের দুর্বলতা এই অর্থে যে আমরা দেখেছি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক কিছুই ঘটছে যা কিনা মনে হয় বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধীযেমন ট্রানজিট সুবিধা থেকে নিয়ে অনেক রকমের সুবিধা নেয়াবিনিময়ে আমরা দেখি প্রতিশ্রুতি না রাখাঅর্থাৎ এই যে তিস্তা চুক্তি না হওয়া, বর্ডারে হত্যার ঘটনা ঘটছেকাজেই এই ধরনের বাস্তবতাগুলো সুস্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত দেয় এভাবে ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপ এটা বাংলাদেশের জন্য অনেকাংশেই অপমানজনক
দুদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি প্রভাব ফেলছে কিনা সে সম্পর্কে এম শাহীদুজ্জামান বলেন, এইসব কারণে দুদেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারেকেননা ভারত সরাসরি বাংলাদেশের কাছে এইভাবে নিজেকে প্রদর্শন করছেখুব ভালভাবে জেনেশুনে ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করার কথা রয়েছেকাজেই বাংলাদেশ এটাকে কূটনৈতিক সিগন্যাল হিসাবে নেবেভারত বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত একটা আধিপত্য সূচক প্রবণতা সেটা প্রয়োগ করতে দ্বিধা করছে না
সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Facebook Comments