উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার স্মরণ সভা পালিত

0
43
Print Friendly, PDF & Email

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এই প্রথমবারের মতো পালিত হলো উপমহাদেশের অন্যতম শেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার মৃত্যু দিন উপলক্ষে স্মরণ সভা। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হরিণহাটি এলাকায় উজ্জল ক্যাডেট হাই স্কুল এর উদ্যোগে এ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উজ্জল ক্যাডেট হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. উজ্জল হোসেন এর সভাপিতত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, অত্র স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিবাবক বৃন্দ।

সভার শুরুতে উপমহাদেশের অন্যতম শেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার স্মরণে সবাই দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার জীবন পরিচিতি সর্স্পকে আলোচনা করেন। 

বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহা ১৮৯৩সালের ৬ই অক্টোবর বর্তমান গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার  শেওড়াতলী গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহন করেন। প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির দিনে তার জন্ম হয় বলে প্রথমে তার নাম রাখা হয় মেঘনাথ পরে তা একটু বদল করে রাখা হয় মেঘনাদ। জগন্নাথ সাহা ও ভুবনেশ্বরী সাহার ৫ম সন্তান মেঘনাদ সাহা। 

শুধু ভারতীয় উপমহাদেশে নয় সমগ্র বিজ্ঞানের জগতে আধুনিক জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে উঠেছে যে ক’জন মানুষের মৌলিক তত্ত্বের উপর অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা তাঁদের অন্যতম। ১৯২০ সালে মেঘনাদ সাহার তাপীয় আয়নায়নের সমীকরণ (আয়নাইজেশান ইকুয়েশান) প্রকাশিত হবার পর থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে যত গবেষণা হয়েছে তাদের প্রায় সবগুলোই সাহার সমীকরণ দ্বারা প্রভাবিত। নরওয়ের বিখ্যাত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী সেভিন রোজল্যান্ড অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত “থিওরেটিক্যাল এস্ট্রোফিজিক্স” বইতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এ কথা। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের পারমাণবিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিগ-ব্যাং তত্ত্বের পরীক্ষণ পর্যন্ত সহজ হয়ে উঠেছে যে যন্ত্রের উদ্ভাবনের ফলে সেই সাইক্লোট্রনের উদ্ভাবক নোবেল বিজয়ী আর্নেস্ট লরেন্স সহ অসংখ্য বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অর্জন করেছেন মেঘনাদ সাহা তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে। নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী আর্নল্ড সামারফেল্ড, নীল্স বোর, ম্যাক্স বর্ন, আলবার্ট আইনস্টাইন, আর্থার এডিংটন, এনরিকো ফার্মি, আর্থার কম্পটন প্রমুখ দিকপাল মুগ্ধতার সাথে স্বীকার করেছেন মেঘনাদ সাহার অনন্য প্রতিভার কথা। ভারতবর্ষের বিজ্ঞানচর্চার সাথে বিশ্বের পরিচয় ঘটিয়ে দেয়ার ব্যাপারে এবং ভারতের বিজ্ঞান-গবেষণাকে বিশ্বমানে উন্নীত করার ব্যাপারে মেঘনাদ সাহার অবদান অনস্বীকার্য। গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে রয়েল সোসাইটির ফেলোশিপ পাবার পাশাপাশি মেঘনাদ সাহা নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন চার বার। ভারতীয় উপমহাদেশে বিশ্বমাপের বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে মেঘনাদ সাহার অক্লান্ত পরিশ্রমে। দেশে নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞান পড়ানো শুরু হয়েছে মেঘনাদ সাহার হাতে। নিরলস চেষ্টা ও পরিশ্রমে গড়ে তুলেছেন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স, ইন্ডিয়ান ফিজিক্যাল সোসাইটি, ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ এসোসিয়েশান সবগুলো সংগঠনই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মেঘনাদ সাহার নেতৃত্বে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে মেঘনাদ সাহা মূলত পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন না। তিনি বিএসসি ও এমএসসি পাশ করেছেন মিশ্র গণিতে। সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় পদার্থবিজ্ঞান শুধু শিখেছেন তাই নয় ক্রমশঃ পৌঁছে গেছেন এই বিষয়ের শিখরে। উপমহাদেশে প্রথম সাইক্লোট্রন স্থাপিত হয় মেঘনাদ সাহার প্রচেষ্টায়। বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে গেছেন তিনি। দরিদ্র অশিক্ষিত মা-বাবার সন্তান হয়েও মেধা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জোরে একজন মানুষ যে কত বড় হয়ে উঠতে পারেন মেঘনাদ সাহা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

১৯৫৬ সালের ১৬ফেব্রুয়ারী কলকাতা থেকে নয়াদিল্লী পার্লামেন্ট ভবনে যাওয়ার পথে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে তিনি মারা যান। 

কৃর্তিমান এই বিজ্ঞানীর জন্মদিন কিংবা মৃত্যু বার্ষিকী পালনে নেই কোন সরকারী-বেসরকারী ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মহান বিজ্ঞানীর নাম এখন অনেকেই ভুলে গেছে। সব মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৮৬টি। 

 

Facebook Comments
শেয়ার করুন