কালিয়াকৈরে কবরস্থানের জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ !

0
39
Print Friendly, PDF & Email

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পূর্ব চান্দরা বোর্ড মিল বাজার এলাকাতে কবরস্থানের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে । সফিপুর বাজার থেকে এক কিলোমিটার উত্তর দিকে সফিপুর-বড়ইবাড়ি রাস্তার পাশে এ কবর স্থানটি অবস্থিত। মুল সড়কের পাশে থাকার কারণে এ জায়গাটির বাজার মূল্য অনেক। ফলে কবরস্থানটির দিকে নজর পড়েছে অনেকেরই। 

স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে বোর্ড মিল এলাকার এবং আশে পাশের অসহায় ভূমিহীন মানুষের জন্য একমাত্র কবরস্থান এটি। আর অসহায়দের শেষ আশ্রয়ের ওই জমি দখলের পায়তারায় দীর্ঘ দিন ধরে লিপ্ত রয়েছে স্থানীয় একটি মহল। বিভিন্ন সময় তারা কৌশলে কবরস্থানের জমি অল্প অল্প করে দখল নিয়ে কবরস্থানের জমির পরিমান কমিয়ে ফেলেছে। কবরস্থানের চারদিকেই জমি দখল হয়েছে বলে জানা গেছে। দখলকারীরা কবরের জমিতে বসত বাড়ি দোকান সহ নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ  খাদেম আলী (৫৫), সেলিম (৪০) রশিদ (৫০) জিয়া (৩৫) কবরস্থানের জমি দখল করে বসতবাড়ি, দোকানপাট নির্মাণ করেছে । এলাকাবাসীর মতে, এরা প্রতিমাসে কবরস্থানের অবৈধ ভাবে দখলকৃত জমি থেকে লক্ষাধিক টাকার বেশি আয় করছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করে অনেককেই বিভিন্ন সময় নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ইতোপূর্বে এই কবরস্থান নির্মানে যার অনস্বীকার্য ভুমিকা এবং কবরস্থান তৈরির রূপকার এলাকার তরুন মো. মুকুল হোসেনসহ  ওই দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মামলাও খেয়েছেন অনেকে। ফলে সমাজের প্রতাবশালী ওই দখলদারদের ভয়ে কেউ আর প্রতিবাদ করতে চান না। 

সরেজমিনে দেখা যায়, কবরস্থানের দক্ষিন পাশে রশিদ নামের এক ব্যক্তি মার্কেট নিমার্ণ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ রশিদের নির্মানাধীন মার্কেটের ভিতর বেশ কয়েকটি কবর পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনতা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করলেও থামছে না রশিদের মার্কেট নির্মানের কাজ।

প্রতিবেদককে তারা জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই তারা কবরস্থান দখলের বিষয়টি বিভিন্ন মহলে জানিয়েছেন। কিন্তু কোন প্রকার সমাধান হয়নি। ফলে তারা প্রতিবাদী হয়ে নিজেরাই কবরস্থান দখল করে মার্কেট নির্মাণে বাধা দিয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে এলাকার বনভূমির জমি দখল করে ইতো মধ্যেই বেশ টাকার মালিক বনে গেছেন উল্লেখিত ব্যক্তিরা। বনবিভাগের জমি দখল করে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতে কোন সমস্যা না হওয়ার কারণে তাদের নজর পড়েছে কবরস্থানের দিকে।  আজ তারা কবরস্থানের জমি দখলের পায়তারা করছে। 

এলাকাবাসী আরো অভিযোগ করে বলেন, টাকা দিয়ে প্রশাসনের ব্যক্তিদের কিনে রেখেছে উল্লেখিত ব্যক্তিরা। আর তাই বিভিন্ন সময় প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত থেকে অবৈধ দখলকে বৈধতা দিয়ে গেছেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন যেমন জড়িত তেমনি বনভূমির লোকজনও জড়িত বলে তারা জানান।

সংশ্লীষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দর কাছে এলাকাবাসীর দাবী, যাতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বেদখল হওয়া কবরস্থানের জমি পুনরুদ্ধার করে অবৈধ দখল থেকে কবরস্থানকে রক্ষা করা যায় তার জন্য সার্বিক সহযোগীতা করার।

এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় রশিদ নামের এক ব্যক্তি কবরস্থানের জমি দখল করে মাকের্ট নিমার্ন করতে গেলে গত শনিবার এলাকাবাসী ওই কাজে বাধা প্রদান করেন। পরে রশিদ মিয়া এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে বসে ওই জমি সার্ভেয়ার দারা মেপে সঠিক সীমানা নির্ধারনের মাধ্যমে কাজ করার এবং তার ভেতরে কবরস্থানের জমি পরলে সে সবার উস্থিতে তা ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই মোতাবেক এলাকার লোকজন পরের দিন রবিবার সকাল ৯টার দিকে সার্ভেয়ারসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু রশিদ মিয়া সবার সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সেখানে উপস্থিত হননি। পরে তার জন্য সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে ফিরে যায়।   

কবর স্থান দখলে যাদের নাম শোনা গেছে তাদের অনেকের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে কবরস্থানের জমি দখল করে নতুন করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ যার নাম এসেছে সেই রশিদ কবর স্থানের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। 

Facebook Comments
শেয়ার করুন