সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুবিধাবাদী ভূমিকায় : মির্জা ফখরুল

49

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ক্ষমতাসীন সরকার সুবিধাবাদী ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আজ বৃহস্পতিবার এক সভায় বলেন, আওয়ামী সরকার মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় সুবিধাবাদী ভূমিকা পালন করছে। প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় পর্যন্ত দিচ্ছে না। উল্টো বিজিবি তাদেরকে ফেরত পাঠাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, মিয়ারমার সরকারকে বাধ্য করতে হবে তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান এখনই চাই।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাবেক অর্থমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম এম সাইফুর রহমানের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা বলেন।

এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন এম সাইফুর রহমানের বড় ছেলে এম নাসের রহমান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন প্রমুখ। সভায় সভায় এম সাইফুর রহমানের জীবন-আদর্শ নিয়ে স্বরণিকা প্রকাশ করা হয়।

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সুবিধাবাদী অবস্থান না নিয়ে মানবতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করুন। মিয়ানমার সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে বাধ্য করতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসী এক। আমাদের সরকার সুবিধাবাদী ভুমিকা পালন করছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে বিজিবি। আমরা কোনো হিন্দু মুসলমান জিজ্ঞেস করতে চাই না। তারা মানুষ। রোহিঙ্গা সমমস্যার সমাধান এখনই চাই। মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করাতে হবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে।

আগামীকাল শুক্রবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি পালন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন রোহিঙ্গাদের মাবাধিকার নিয়ে বিএনপি মানববন্ধন করবে! আশঙ্কা হচ্ছে তারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় কি না? তারা সভা-সমাবেশের ডাক দিলেই নিজেরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এর দায় চাপায় আওয়ামী লীগের ওপর। উনার বক্তব্যটা একটা অশনি সঙ্কেত। তার এ কথায় বুঝা যায় তাদের মাথায় অন্য কোনো পরিকল্পনা আছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেরা নিজেরাই সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। প্রতিনিতই খবরের কাগজ খুললে তা দেখা যায়। গতকালও নোয়াখালীতে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। অনেকেইে আহত হয়েছেন।

মরহুম এম সাইফুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সাইফুর রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতির একজন পথিকৃৎ। তিনি বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ অর্থনীতির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। তার বিকল্প আমাদের মাঝে নেই। তিনি সমাজ পরিবর্তনের রূপকার। বিএনপি এবং দেশকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো দ্বিধা করতেন না। তার বিচক্ষণতা ছিল প্রখর।

আজকে সরকার প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাহবা নিচ্ছে। অথচ মরহুম সাইফুর রহমানের সময় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। মুক্তবাজার অর্থনীতির সব খাত খুলে দিয়েছিলেন তিনি। তার পথেই তো আমাদেরকে চলতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সরকার মিথ্যা কথা বলে তথ্য বিকৃতি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। রাস্তাঘাট খারাপ। ব্যাংকিং খাত ভেঙে পড়েছে। শেয়ার বাজারের অবস্থা খারাপ। সরকার বলে সড়কে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু উত্তরা থেকে পল্টনে আসতেই সময় লাগে তিন ঘণ্টার বেশি। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় সরকার চরম ব্যর্থ।

তিনি বলেন, আজকে দেশে খুন ধর্ষণ নিয়মিত হচ্ছে। কিন্তু সরকার বিরোধীদলকে দমনে তার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করছে। অপরাধ দমনে তাদেকরকে কাজে লাগানো হচ্ছেনা। হত্যা, খুন, গুম ধর্ষণ ও লুটপাটের নেতৃত্বে সরকার। তারা যেন ঠুঁটো জগন্নাথ। কোনো কিছু ঘটার সাথে সাথে বিএনপিকে দোষারোপ করে। আজকে আমাদের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, বিএনপি অবশ্যই নির্বাচন চায়। তবে তা হতে হবে একটি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে। তা না হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু হবে না।

Facebook Comments